সুমন আদক, হাওড়া: উদ্বিগ্ন ছিলেন তাঁরা৷ দুবছরের কন্যা শিশুকে নিয়ে আতঙ্কে ছিলেন৷ কারণ জন্মের পর থেকেই হার্টের গুরুতর সমস্যায় ভুগছিল আফ্রিকার নাইজেরিয়ার দু’বছরের ছোট্ট মেয়ে মিরাকেল চিমনেমে।

সেদেশের চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন ‘ব্লু বেবিস’ অর্থাৎ ‘টেট্রালজি অফ ফ্যালোট’-এর শিকার হয়েছে ছোট্ট মিরাকেল। এরপর রোটারী ক্লাব বেলুড়ের সহযোগিতায় নাইজেরিয়ান দম্পতি যোগাযোগ করেন হাওড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে৷ এখানেই ছোট্ট শিশুটির সফল হার্ট সার্জারি হয়।

এখন সে পুরোপুরি সুস্থ ও স্বাভাবিক। আগামী সপ্তাহেই মিরাকেলকে নিয়ে বাড়ি ফিরবেন নাইজেরিয়ান দম্পতি। শনিবার হাওড়ার এই বেসরকারি হাসপাতালে এক সাংবাদিক বৈঠক করে এ কথা জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ দেবাশিস দাস, বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ অমিতাভ চট্টোপাধ্যায়, বেলুড়ের রোটারি ক্লাবের সভাপতি রাকেশ ভাটিয়া, সেক্রেটারি রমেশ তিওয়ারি সহ হাসপাতালের ফেসিলিটি ডিরেক্টর শুভাশিস ভট্টাচার্য প্রমুখ।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শুধু মিরাকেলই নয়, এমন অসংখ্য শিশু রয়েছে যারা জন্মের পর থেকেই হার্টের বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তারা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দু’একটি ক্ষেত্র বাদ দিলে বাকি সবক্ষেত্রেই তারা সফল। এইসব শিশুরা সুস্থ জীবনে ফিরেছে৷ স্বাভাবিক আর পাঁচটা বাচ্চার মতোই জীবন যাপন করছে৷ এদের নিয়েই এ বছর তারা অভিনব শিশু দিবস উদযাপন করবেন।

এই হাসপাতালের পক্ষ থেকে কিডস কার্নিভালের আয়োজন করা হবে বলে জানা গিয়েছে৷ এইসব শিশুরা যে স্বাভাবিক সুস্থ জীবনযাপন করছে, এই কার্নিভালের মাধ্যমে সেই বার্তা তুলে ধরা হবে।