গুরগাঁও: পরীক্ষায় যে অসাধারণ ফলাফল করেছে তা নিজের কানে শুনতে পায়নি লাবন্য। তবে খবরটা যখন জানতে পারে, তখন নিজের আনন্দ আর চেপে রাখতে পারেনি সে। মাকে জড়িয়ে ধরে খুশিতে ফেটে পড়ে সে। লাব্যন্যর না শোনার পিছনে একটা কারণ অবশ্য রয়েছে। আর সেই কারণটা হল জন্ম থেকেই কানে শুনতে পায় না লাবণ্য বালকৃষ্ণন।

বিপুলা এ ধরণীর রূপ দেখতে পেলেও উচ্ছ্বাস কিংবা মন ভাঙার শব্দ শুনতে পায় না সে। তাই নিজের সবচেয়ে আনন্দের দিনে লাবন্যের কাছে অধরাই ছিল প্রতিকূলতা জয়ের খবরখানা। কিন্তু, লড়াইয়ের ডঙ্কা যেমন বুকে বাজে, তেমনই লড়াই জিতলে সে জিতে নেওয়ার খবর ভাসে অনন্ত বাতাসে। শ্রবণ শক্তিহীন লাবন্যরা খবর পেয়ে যান বাঁধার পাহাড় টপকে পৌঁছে গিয়েছেন সাফল্যের আকাশে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশ পেয়েছে সিবিএসই’র দ্বাদশ শ্রেনীর পরীক্ষার ফল। সেখানে ৫০০’র মধ্যে ৪৮৯ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করল লাবণ্য। বিশেষ বিভাগে প্রথম হয়েছে সে।

সংবাদসংস্থা আইএএনএস’কে লাবন্য জানায়, “আমি নিজের রেজাল্টের খবর পেয়ে আনন্দ চেপে রাখতে পারিনি। এই খবর আমার আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। লড়াই করার জন্য আত্মবিশ্বাস তো সবথেকে বেশি জরুরি”।

দ্বাদশ শ্রেণিতে তার যে বিষয়গুলি ছিল, সেগুলি হল- ইংরেজি, সমাজবিদ্যা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, চারুকলা এবং হোম সায়েন্স। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ১০০’তে ১০০ নম্বর পেয়েছে লাবণ্য। তাঁর এই ফলাফলের জন্য লাবণ্য সবথেকে বেশি কৃতিত্ব দিতে চান তার অভিভাবক এবং তার বোনকে। লাবণ্য যে স্কুলে পড়ে, সেই স্কুলেরই শিক্ষিকা তার মা। তার পড়াশোনার দেখভালও করেন মা-ই।

“আমার মা সবসময় আমাকে উদ্বুদ্ধ করে। বরাবরই করত। কখনওই আমার নিজেকে পাঁচজনের থেকে আলাদা বলে মনে হয়নি। মনে হয়নি যে, আমার শরীরে কোনও সমস্যা রয়েছে। মনে হয়নি যে, আমি কিছু করতে পারব না”।

খুশির একটা শব্দ আছে। প্রতিকূলতা ছাপিয়ে প্রথম হওয়ার শব্দ। লড়াই জয়ের শব্দ। যে শব্দ অনায়াসেই পৌঁছে যায় মননে। শ্রবণ শক্তি হীনতার সম্মুখে দাঁড়িয়ে যে এক বুক উল্লাস নিয়ে বলে ওঠে, শোন আমি জয়ী…… আমিই জয়ী।