স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি : হাওড়ার ঘটনার জের। ফের পিছিয়ে গেল বিমল গুরুং ও রোশন গিরিদের আগাম জামিনের শুনানির দিন। জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে আজ কোনো মামলা মুভ করবেন না আইনজীবীরা বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে৷

ফলে বিমল গুরুং ও রোশন গিরিদের আগাম জামিনের শুনানিও আজ হবে না। এই শুনানি হবে শুক্রবার৷ জানালেন সরকার পক্ষের আইনজীবী সৈকত চট্টোপাধ্যায়৷ জলপাইগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশন ও কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের ভাইস প্রেসিডেন্ট গৌতম পাল জানান গতকাল পুলিশের বর্বরোচিত হামলার জেরে আমরা মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত। ফলে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি জেলা আদালত ও সার্কিট বেঞ্চে কোনো কেস উঠবে না৷

এদিন জলপাইগুড়িতে কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চের বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভ্রা ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে বিমল গুরুং ও রোশন গিরির অন্তর্বতী জামিনের মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। একসাথে মোট ৭৬টি মামলার শুনানি ছিল এদিন৷ এর মধ্যে ছিল বিস্ফোরক রাখা, দেশদ্রোহিতার বিষয় সংক্রান্ত মামলাও৷

গত মাসে সুপ্রিম কোর্টে লোকসভা ভোটের আগে গুরুং জামিনের আবেদন করলে হাইকোর্টে আবেদন করতে নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত৷ এইমাসে সার্কিট বেঞ্চে আবেদন করলে সরকার পক্ষের আইনজীবীরা একসাথে সমস্ত মামলার শুনানির প্রস্তাব দেন। আজ সেই মামলার শুনানি ছিল৷

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ। কর্পোরেশনের নতুন গেটের সামনে এক আইনজীবীর গাড়ি রাখাকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, কর্পোরেশনের অস্থায়ী কর্মীদের কেউ সেই গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এর পর সেই খবর কোর্টে পৌঁছলে ধুন্ধুমার বেঁধে যায়৷ উকিলরা ঢুকে পড়েন কর্পোরেশনের মধ্যে। পুরকর্মীদের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায় আইনজীবীদের। রক্তাক্ত হন বেশ কয়েক জন আইনজীবী।

কর্পোরেশনের ভিতর আটকে পড়েন কয়েক হাজার কর্মী। পুর দফতরে কাজে আসা মানুষরাও বিপদে পড়েন৷ কর্পোরেশনের দুটি গেটই আটকে দেন আইনজীবীরা। বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা, প্রায় ছ’ঘন্টা ধরে চলে এই পরিস্থিতি৷। রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায়ও আসেন জটিল অবস্থা সামলাতে৷ কিন্তু অনড় আইনজীবীরা ঘিরে থাকেন হাওড়া কর্পোরেশন দফতর। দফায় দফায় চলে ইটবৃষ্টি।

এক সময় আইনজীবী এবং পুরকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে ব্যাপক আকার ধারণ করে৷ দফায় দফায় চলে ইঁট বৃষ্টি৷ পরে হাওড়া কমিশনারেটের বিশাল পুলিশ আসে৷ নামানো হয় ব়্যাফ৷ পরিস্থিতি বাগে আনতে লাঠি চার্জ করে তারা৷ ফাটানো হয় কাঁদানে গ্যাসের শেল৷

হাওড়া কোর্টের আইনজীবীদের বক্তব্য, পুলিশে সঠিক বিচার না করে নির্বিচারে লাঠি চালিয়েছে৷ তাদের ভূমিকা পক্ষপাতদুষ্ট৷ জরুরি অবস্থার সময়ও এই কাজ হয়নি বলে দাবি তাদের৷