কলকাতা: নোভেল করোনার আতঙ্কে ভুগছে গোটা বিশ্ব। দেশে করোনা আক্রান্ত বেড়ে ১১২। মারণ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখনও পর্যন্ত দেশে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশজুড়ে করোনার সংক্রমণ রুখতে একাধিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পিছিয়ে নেই এরাজ্যও।

রাজ্য সরকারের নির্দেশে করোনার সংক্রমণ রুখতে সতর্কতামূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এবার করোনা মোকাবিলায় বাড়ি বাড়ি যাবেন আশাকর্মীরা। জ্বর, সর্দিকাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন তাঁরা। বাড়ির কোনও সদস্য বিদেশ থেকে ফিরেছেন কিনা, তারও খোঁজ নেবেন আশা কর্মীরা।

করোনা মোকাবিলায় তৎপর রাজ্য সরকার। একাধিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর করোনা মোকাবিলায় একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। ওই নির্দেশিকা মেনেই কাজ করতে বলা হয়েছে আশাকর্মীদের। বাড়ি-বাড়ি ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করবেন তাঁরা। যাঁরা করোনা ভাইরাস আক্রান্ত দেশগুলিতে গিয়েছেন ও যাঁদের জ্বর, সর্দি, কাশি রয়েছে তাঁদের A ক্যাটাগরিতে ফেলতে হবে। A ক্যাটাগরির ব্যক্তিদের আইসোলেশন রেখে চিকিৎসা করা হবে।

উল্টোদিকে, যাঁরা গত কয়েকদিনে বিদেশে যাননি কিন্তু জ্বর, সর্দি, কাশির লক্ষ্মণ রয়েছে, তাঁদের B ক্যাটাগরিতে ফেলা হবে। এরই পাশাপাশি হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস কিংবা শ্বাসকষ্ট থাকলে তাঁদেরও একই গ্রুপে রাখা হবে।

তাঁদের পরিবারকেও আইসোলেশন ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। যাঁরা গত কয়েকদিনে বিদেশে গিয়েছেন অথচ জ্বর বা অন্য কোনও লক্ষণ নেই, তাঁদের C ক্যাটাগরিতে ফেলা হবে। তবে তাঁদেরও ১৪ দিন বাড়িতে নজরবন্দি থাকতে হবে। যাঁদের বিদেশে যাওয়ার রেকর্ড নেই এবং জ্বর, সর্দি, কাশিও নেই, তাঁদের D ক্যাটাগরিতে ফেলা হবে।

ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য দফতরের এই নির্দেশিকা পৌঁছে গিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য অধিকর্তা বা CMHO-দের কাছে। নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে প্রত্যেকটি হাসপাতালের সুপার এবং প্রত্যেকটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ এবং সুপারদের কাছেও।

করোনা ভাইরাসের মোকাবিলায় সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকতে আবেদন জানিয়েছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই সংক্রমণ এড়াতে রাজ্যের সরকারি ও বেসরকারি সব স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছুটি ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।