ভোপাল: ক্রমেই অবনতি হছে দেশের। করোনা সংক্রামিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। দেশে এখনও পর‍্যন্ত মৃতের সংখ্যা ছুঁয়েছে ১৯। বের হয়নি এখনও কোনও প্রতিষেধক। এই অবস্থায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় হল করোনা মোকাবিলার মূল দাওয়াই। তেমনটাই জানাছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। ফলে রাস্তাঘাট বাজার পরিষ্কার পরিছন্ন এবং মানুষকে আরও বেশী করে সচেতন করতে পথে নেমেছেন পুলিশ-প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য আধিকারিকেরা। দেশের অন্যান্য রাজ্যের মতো করোনা মোকাবিলায় তৎপর মধ্যপ্রদেশ সরকারও।

ফলে প্রতিদিনই মিউনিসিপাল কর্পোরেশন এর পক্ষ থেকে রাজধানী ভোপাল সহ রাজ্যের সমস্ত অংশ স্যানিটাইস করা হছে। আর একাজে নিযুক্ত রয়েছেন ভোপাল মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য আধিকারিকরাও। প্রতিদিনের মতো এদিন সকালেও ভোপালের রাস্তাঘাট পরিষ্কার পরিছন্ন করতে নামেন মিউনিসিপালের কর্মীরা। আর সেখানে অফিসিয়াল ইনচার্জ হিসেবে কাজের তদারকি করছেন অফিসার আশরাফ আলি। কিন্তু আর ৫টা দিনের মতো ছিলো না বুধবারের সকালটা।

কারন, এদিন কাজ শুরু করতেই বাড়ি থেকে ফোন আসে আশরাফের। আর তাতেই তিনি নিজের মায়ের মৃত্যুর সংবাদ পান। যদিও, এরপর তার সহকর্মীরা তাঁকে বাড়ি চলে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু সমস্ত কিছু অগ্রাহ্য করে নিজের কাজ সম্পুর্ন করেই বাড়ি ফেরেন ওই অফিসার। আর তার এমন কাজে না কুর্নিশ জানিয়ে থাকতে পারেননি তার সহকর্মীরা।

এদিন একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের কাছে সাক্ষাৎকারে আশরাফ বলেন,” সেদিন সকাল ৮টায় জানতে পারি যে আমার মা আর নেই। জানি মা আর কখনও ফিরেও আসবে না। কিন্তু যে মায়ের জন্য আজ আমি পৃথিবীর মুখ দেখেছি, সেই মাতৃভূমিই আজ বিপন্ন। মারন ভাইরাসের জেরে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কেউ না কেউ প্রান হারাছেন। এই অবস্থায় দেশকে বাঁচাতে মাতৃভূমির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সব কিছুর আগে কাজই বড়।”

তিনি আরও বলেন, “আমি মায়ের দেহ সৎকারের জন্য দুপুরেই বাড়িতে ফিরে গিয়েছিলাম। সমস্ত কাজ মিটিয়ে ফের বিকেলে আবার কাজে যোগ দিই। অন্যদিকে, এই ভোপাল মিউনিসিপালে আরও ১ কর্মী রয়েছেন। তিনি হলেন, ইরফান খান। যিনিও শত বাধা সত্ত্বেও নিজ কর্তব্যে অবিচল। যদিও আশরাফের মতো তার বিষয়টি অতটা বেদনাদায়ক নয়। কারন, গত সোমবারই কাজ করতে গিয়ে নিজের ডান হাতে মারাত্মক চোট পান ইরফান। ফলে চিকিৎসকরা তাকে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেন।

যদিও চিকিৎসকদের উপদেশ উপেক্ষা করেও আশরাফের মতো ইরফানও নিজের কাজের প্রতি দায়বদ্ধ। আর করোনা যুদ্ধের এই সহযোদ্ধাদের খবর চাউর হতেই তাঁদের কাজকে কুর্নিশ জানাছেন ভোপালবাসী। যদিও, মধ্যপ্রদেশে এখনও পর‍্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২০। এছাড়াও মারণ এই ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন ২জন। এদিকে, দেশে এখনও পর‍্যন্ত দাপট দেখাছে করোনাভাইরাস।

মারণ এই ভাইরাসের জেরে সংক্রমণ এবং প্রানহানি বেড়েই চলেছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী শনিবার পর‍্যন্ত দেশে প্রান হারিয়েছেন ১৯ জন। এছাড়াও আক্রান্তের সংখ্যা ছুঁয়েছে ৮০০’ঘর। এছাড়া করোনার কাঁটায় চীনের পর সব থেকে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলি হল, ইরান ইতালি আমেরিকা সহ ইউরোপ মহাদেশের দেশগুলি।