তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: হাসপাতালে ওষুধ ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার তহবিলে ‘ঘাটতি’ থাকায় দীর্ঘ সময়ের জন্য ‘অপ্রয়োজনীয়’ ওষুধ না লিখতে চিকিৎসকদের নির্দেশ দিল বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর জেলা স্বাস্থ্য দফতর। আর যা নিয়ে তৈরী হয়েছে বিতর্ক। বিষ্ণুপুরের সহকারী মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক মীনাক্ষি মাইতির লেখা গত ১৯ নভেম্বর মেমো নম্বর ACMOH/BSP/235 চিঠি এসেছে পৌঁছেছে কলকাতা২৪×৭ এর হাতে।

সোনামুখী, রাধানগর, পাত্রসায়র, কোতুলপুর, ইন্দাস, জয়পুর গ্রামীণ ও ব্লক হাসপাতালের বিএমওএইচ সহ বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালের উদ্দেশ্যে লেখা ওই চিঠিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই চিঠিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ‘রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ লিখুন।’ একই সঙ্গে দীর্ঘ সময়ের জন্য ‘অপ্রয়োজনীয়’ ওষুধ চালিয়ে গেলে’জরুরী ওষুধ কেনার কাজ বাধাগ্রস্ত হবে’। বলে জানানো হয়েছে। এছাড়াও বিষয়টি জনস্বার্থে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগ, কলকাতাকে জানানো হয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।

এই বিষয়ে বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য দিব্যেন্দু ব্যানার্জী বলেন, চিকিৎসকরা রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ লেখেন। কোনও চিকিৎসক অপ্রয়োজনীয় ওষুধ লেখেন বা পরীক্ষা করেন বলে তার জানা নেই জানিয়ে বলেন, সহকারী মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কেন এধরণের কথা বলেছেন আমি বুঝতে পারছিনা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যেখানে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতিতে প্রচুর পরিমানে ওষুধ সহ চিকিৎসা সরঞ্জাম দিচ্ছেন, সেখানে উনি কি করে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ব্যায় সঙ্কোচনের কথা বলছেন বলেও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে বিষ্ণুপুর জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলবেন। চিকিৎসকরা যেখানে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ লেখেননা সেখানে এই নির্দেশ মানে তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করবে বলেও বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য দিব্যেন্দু ব্যানার্জী মনে করেন।

বিষ্ণুপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রামানিককে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনিও ‘তহবিলে’ ঘাটতি থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, যিনি ওই নির্দেশ দিয়েছেন বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলুন। এর বাইরে তিনি কিছু বলতে রাজী হননি।

সংশ্লিষ্ট নির্দেশনামায় স্বাক্ষর থাকা বিষ্ণুপুরের সহকারী মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক মীনাক্ষি মাইতির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তাই তার কাছ থেকে এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলিনি।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও