ইংরেজবাজার: স্কুলের গায়ে রয়েছে কোএড তকমা। কিন্তু একসঙ্গে ক্লাস করা যাবে না ছাত্রছাত্রীদের। ছেলেদের এবং মেয়েদের জন্য আলাদা করে তিনটি পৃথক দিন ধার্য করা হয়েছে পঠনপাঠনের।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি মালদহ জেলার হবিবপুরের। ওই এলাকার গিরিজা সুন্দরী বিদ্যামন্দির স্কুলের প্রধান শিক্ষক এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের এই নয়া সিদ্ধান্তের কারণে সপ্তাহে তিন দিন ক্লাস হয়ে ছেলেদের এবং বাকি তিন দিন হয় ছাত্রীদের।

আরও পড়ুন- রশিতে প্রথম টান দেন বাড়ির মহিলারা, শুরু হয় রথযাত্রা

তবে পুরো স্কুলের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর নয়। কেবলমাত্র একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য। কিন্তু একন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হল? এই বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক জগদীশ সরকার জানিয়েছেন যে স্কুলে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করছিল ছেলেরা। যার প্রভাব পড়েছিল নিচু ক্লাস গুলোতেও। এমনকি বিদ্যালয় চত্তর প্রেমিকযুগলের আখড়া হয়ে গেছিল। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছেন জগদীশবাবু।

প্রধান শিক্ষকের সিদ্ধান্ত অনুসারে সপ্তাহের সোম, বুধ এবং শুক্রবার করে পঠনপাঠন হবে কেবলমাত্র ছাত্রীদের। বাকি মঙ্গল, বৃহস্পতি এবং শনিবারে ক্লাস নেওয়া হবে ছাত্রদের। স্কুলের অনেক ছাত্রী ছাত্রদের ইভটিজং-এর শিকার হচ্ছিল। ন্যা নিয়ম কার্যকর করার ক্ষেত্রে এই বিষয়টিও একটি অণ্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক জগদীশ সরকার। অনেক ছাত্রী প্রধান শিক্ষকের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

কিন্তু সঠিক সময়ে সিলেবাস শেষ হওয়া নিয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। কারণ আলাদা আলাদা ক্লাস হলে পঠনপাঠনের সময় কমে যাবে। এই জটিলতা অচিরেই দূর করা যাবে বলে দাবি করেছেন প্রধান শিক্ষক জগদীশবাবু। পড়ুয়াদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষকের বিশেষ নির্দেশিকা জারি নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। স্কুলের অনেক অভিভাবক এই বিষয়টির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।

স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পাশে দাড়াচ্ছে না রাজ্য সরকার। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এই বিষয়ে বলেছেন, “এই ধরনের সিদ্ধান্ত কখনই সমর্থন করা যায় না। এই বিষয়ে আধিকারিকদের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।” ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শিক্ষা দফতরের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেননি বলে দাবি করেছেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষা সংসদের সভাপতি মহুয়া দাস।