সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, হাওড়া : উমা সিনেমায় মেয়ের জন্য শহর জুড়ে দুর্গা পুজো তৈরি করে দিয়েছিল ওর বাবা। কিন্তু ওদের বাপ মায়ের সে ক্ষমতা নেই। অনেকের ক্ষমতা নেই সামান্য রথের মেলা থেকে দুটো খেলনা কিনে দেওয়ার কিংবা এগরোল, ফুচকা কিনে দেওয়ারও। সিনেমার মতো ছেলে মেয়েদের স্বপ্ন পূরণ করতে এগিয়ে এসেছে স্কুল এবং তার প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিন। স্কুলের অন্দরেই বসিয়ে দিল রথের মেলা, কিনে দিল ঘুঘনি, চটপটি, এগরোল। হাসি ফুটল ওদের মুখে। একইসঙ্গে দিল সম্প্রীতি এবং মানবিকতার বার্তা।

স্কুল থেকে একটু এগিয়েই বসে রথের মেলা।শুক্রবার উল্টোরথের দিনেও সেই মেলা বসেছিল। কিন্তু বিল্টু, সাজদা, প্রতিমদের ‘মেলা মেলা মেলা, আমরা করি খেলা’ সে সুযোগ হয়না অর্থের অভাবের জন্য। অথচ জিলিপি,পাঁপড়,ঘুগনি,এগরোল,ফুচকা,খেলনার দোকান পেরিয়েই ওদের আসতে হয়েছে স্কুলে। আসলে ওদের কেউ প্রত্যন্ত কৃষক পরিবার কেউবা আবার নিতান্তই দিন আনি দিন খাই পরিবারের সদস্য।তাই ইচ্ছে থাকলেও সুযোগ থাকে না নিজেদের ইচ্ছেমতো রথের মেলা কেনাকাটা করার। সুযোগ করে দিয়েছে স্কুল। নিজেদের অপূর্ণতার কথা খুদেরা ভাগ করে নেয় স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে।

তাই রথযাত্রার শুভলগ্নে ছাত্রছাত্রীদের সকলকে খুশি করতে বিদ্যালয়ের উদয়নারায়নপুর ব্লকের ‘গড়ভবানীপুর পুন্ডরীকাক্ষ প্রাথমিক বিদ্যালয়’-এর শিক্ষক-শিক্ষিকারা অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করলেন।মিড-ডে-মিলে নিজেরা উদ্যোগী হয়ে রান্না করলেন জিলিপি-পাঁপড়-ঘুগনি।তা নিজে হাতে তাঁরা তুলে দিলেন ছাত্রছাত্রীদের হাতে।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিন বলেন,”বিদ্যালয় মানে কেবল শিক্ষাঙ্গন নয়। শুধু বই পড়েই শিক্ষা হয় না। আগে মানুষ হওয়ার শিক্ষা তারপর পুঁথিগত শিক্ষা। সেই মানবিকতা থেকেই এই ভাবনা। আর সম্প্রীতি, ওটা নিয়ে আজকাল মানুষ চিন্তিত, আমি নই। ভাবলেই ভয়। ভালোই আছে সমাজ। মিড-ডে-মিলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক সন্দীপ আদক বলেন, “উলটো রথে বিদ্যালয় ছুটি নেই।অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রাচীরের বাইরেই বসেছে রথের মেলা।এইরকম উৎসবমুখর পরিবেশে খুদে পড়ুয়াদের একটু আনন্দদানের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।”পাশাপাশি পড়ুয়াদের মধ্যে প্রকৃতি চেতনা গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। যদিও রথযাত্রায় বৃক্ষরোপণের রেওয়াজ আগে থেকেই ছিল স্কুলে। সেই সূত্র ধরেই খাওয়া দাওয়ার শেষে আমতার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্ন দেখার উজান গাঙ’ এর পক্ষ থেকে বিদ্যালয় চত্বরে বৃক্ষরোপণের ব্যবস্থা করা হয়। রোপণ করা হয় ১০ টি মেহগনির চারা।