দিসপুর: বাগবিতণ্ডায় মাঝে মাঝেই আমরা বলি মুন্ডু ফাটিয়ে দেব বা মাথা কেটে নেবো। এই জাতি সত্যি সেটাই করে। এদের মূল উদ্দেশ্যই হল সামনের ব্যক্তির মাথাটা কেটে নিয়ে ঘরের শোভা বর্ধন করা অথবা স্বজাতির কোনো তরুণীর মন জয় করা। সত্যিই ব্যাপারটা রীতিমত পিলে চমকে দেওয়ার মতোই ঘটনা। এই মুণ্ডু কেটে নেওয়ার রীতি বা কেতাবী ভাষায় যাকে বলে ‘হেডহান্টিং’ সেটা কোনো নতুন ঘটনা না। বস্তুত আমেরিকা, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ, ইউরোপ আর এশিয়ার অনেক অঞ্চলেই এমন অদ্ভুত ও ভয়ানক সংস্কৃতি প্রচলিত ছিল।

আবার ভারতের মধ্যে আসামের ব্রক্ষপুত্র নদের দক্ষিণে বহু আদিবাসী এই মুণ্ডু কাটার নেশায় জড়িয়ে পড়েছিল একটা সময়ে। এই সাহসী ও দুর্ধর্ষ জাতির নাম “নাগারা”। ১৯৪০ এর দশকে ভয়ংকর এই চর্চা আইন করে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ততদিন পর্যন্ত কোন্যাকদের মধ্যে লড়াই মানেই প্রতিপক্ষের মুণ্ডু শিকার। সেই গোত্রের লোকের কাছে এটাই বীরত্বের পরিচয়। মুণ্ডু শিকারি তরুণ যোদ্ধাকে সেই গোত্রের লোকেরা অভিষিক্ত করতো তার মুখে নানা উলকি এঁকে দিয়ে। এমন উলকি দেখলেই বিপক্ষের যোদ্ধারাও বুঝতে পারতো অপর যোদ্ধার সামাজিক মর্যাদা।

আরো পোস্ট- জাগ্রত মন্দিরে গেলেই অপেক্ষা করছে মৃত্যু!

নিষিদ্ধকরণের পরও নাগাল্যান্ডে এমন নরমুণ্ডু শিকারের হদিশ শেষ পাওয়া গিয়েছে ১৯৬৯ সালে। মহিষ, হরিণ, বনগাই, বন্য শূকর আর ধনেশের মাথার খুলি আর হাড় দিয়েই সাজানো থাকে সব কোন্যাকের বাড়ির দেওয়াল। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শিকারের বীরগাঁথার প্রমাণ যেন এসব হাঁড়গোড় ও কঙ্কালেই রয়েছে। কোন্যাকদের বার্ষিক শিকারের দিনে এসব স্মারকের পাশাপাশি বধ করা শত্রুর মাথার খুলিও রেখে দেওয়া হতো তাদের বীরত্বের তালিকায়। তবে নরমুণ্ডু শিকার নিষিদ্ধ হওয়ার পর অনেক কোন্যাকই তাদের শিকার করা শত্রুদের মাথার খুলিগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলেছে। নাগারা যেহেতু যোদ্ধা জাতি তাই তাদের সমাজে কন্যা সন্তানের চেয়ে পুত্র সন্তানের কদর বেশি। তবে মেয়েদেরকেও যথেষ্ঠ সম্মানের চোখে দেখা হয়। নাগা মেয়েরা মূলত কাপড় বোনে আর কৃষিকাজে সাহায্য করে তাদের পরিবারকে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

জীবে প্রেম কি আদৌ থাকছে? কথা বলবেন বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ অর্ক সরকার I।