হাওড়া: বিজেপি করতে গিয়ে তিনি গরিব হয়ে গিয়েছেন। তাঁর সিনেমা হিট হলে পাছে বিজেপির সুবিধা হয় সেই কারণেই তাঁকে এখন আর সিনেমা করতে দিচ্ছে ন শাসক তৃণমূল। বুধবার হাওড়া পুরসভায় সামনে বিজেপি যুব মোর্চার তিনদিন ব্যাপী কর্মসূচির শেষ দিনে হাজির থেকে এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বিজেপি নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়।

তাঁর দাবি, গ্রামেগঞ্জে গিয়ে তাঁর সভায় মানুষের অংশগ্রহণ এবং উন্মাদনা দেখে তাঁর মনে হয়েছে, এখনও যাত্রা, থিয়েটার বা সিনেমা করলে তিনি জনপ্রিয়তায় শীর্ষে থাকবেন। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে, তৃণমূলের চক্রান্তেই তাঁকে অভিনয় জগৎ থেকে সরে আসতে হয়েছে। এর পাশাপাশি রাজ্যের বুদ্ধিজীবীদের প্রতিও এদিন তোপ দাগেন ওই বিজেপি নেতা। তিনি বলেন, ”আমাদের সরকার এলে এই বুদ্ধিজীবীরা আমাদের হয়েই চেঁচাবেন। ওঁরা যাঁদের থেকে সুযোগ পাবেন, তাঁদের হয়েই চেঁচাবেন।”

এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও বলেন, “২০১৪ সালের পলিটিক্যাল খবর রাখেন, ২০১৪ সালে ইলেকশনের সময় দেখুন আর ২০১৯ সালের সময় দেখুন। আমার আয়ের সমস্ত উৎস বন্ধ করে দিয়েছে। আমার যেখান থেকে রোজগার সিনেমা, থিয়েটার, যাত্রা সমস্ত কিছু বন্ধ হয়ে গেছে। লাইট, সাউন্ড, অ্যাকশন এগুলো কেড়ে নেওয়া কতটা পাপ। আমি তো সিনেমা লাইন থেকে বিতাড়িত নয়। আমার ছবি তো মোটামুটি ভাল চলে। সে তো এখনও প্রমাণ হচ্ছে। আমি যেখানে যাচ্ছি সেখানের সভাতে মানুষের ভিড় দেখছি। তাই আজকে আমাকে সিনেমা করতে দেওয়া হয় না। আমার সিনেমা হিট হলে বিজেপির লাভ হয়ে যাবে। সেই কারণে আমাকে সিনেমা করতে দেওয়া হয় না।”

এদিন বুদ্ধিজীবীদের প্রসঙ্গে জয় বলেন, “বুদ্ধিজীবী? তাঁদের কথা না বলাই ভাল। আমরা সিপিএম আমলেও দেখেছি যখন যেরকম তখন সেরকম। এখন তৃণমূলের আমলেও দেখছি। সেজন্য ওদের চরিত্র ওরকমই থাকবে। ওরা পাল্টাবে না। যেখান থেকে সুযোগ পাবে সেখানের হয়েই চেঁচাবে। আমরা সরকারে এলে আমাদের থেকেও সুযোগ সুবিধে আদায় করতে পারলে, আমাদের হয়েও চেঁচাবে। এই হচ্ছে ওদের চরিত্র।”

প্রসঙ্গত, সোমবার থেকে হাওড়া পুরসভার সামনে ‘মে আই হেল্প ইউ’ ডেস্ক চালু করে পুর এলাকার বাসিন্দাদের পরিষেবা সংক্রান্ত অভিযোগ নথিভুক্ত করার কাজ শুরু করেছে বিজেপি যুব মোর্চা। সেখানেই এদিন হাজির ছিলেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। হাওড়া পুরসভায় এক বছরেরও বেশি সময় কোনও নির্বাচিত পুরবোর্ড না থাকায় নানা এলাকায় দৈনন্দিন পুর পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের। নাগরিকদের এই অভিযোগ এক জায়গায় করে পুরসভার প্রশাসক তথা কমিশনারের কাছে দরবার করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।