কলকাতা: ক্রিকেট প্রশাসক হিসেবে সিএবি’র যুগ্ম সচিব সৌরভকে প্রথম দেখে খানিকটা অবাকই হয়েছিলেন তিনি। একা ঘরে বসে দেশের অন্যতম সফল অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নিবৃষ্ট মনে কাজ করার দৃশ্য মুগ্ধ করেছিল ভিভিএস’কে। ইগো ফাইট সরিয়ে রেখে এই একাগ্রতাই পরবর্তীতে সিএবি প্রেসিডেন্ট এবং সম্প্রতি বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট পদে বসতে সাহায্য করেছে সৌরভকে, সাফ জানালেন মহারাজের অন্যতম প্রিয় সেনানী ভেরি ভেরি স্পেশাল লক্ষ্মণ।

শুক্রবার সন্ধ্যায় নয়া বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে সিএবি’র সংবর্ধনা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে এসে নস্ট্যালজিক ইডেনে টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিজয়রথ থামানোর মূল কান্ডারি। প্রথম ইনিংসে ফলো-অন করার পরেও লক্ষ্মণের ভেরি ভেরি স্পেশাল ২৮১ রানের ইনিংসেই তো ২০০১ ম্লান হয়েছিল স্টিভ ওয়ার অস্ট্রেলিয়ার দম্ভ। ভারতীয় দলের নেতৃত্বের ব্যাটন তখন ঘরের ছেলে সৌরভের হাতেই। আর ইডেনে ওই মহাকাব্যিক ইনিংসের পর থেকেই অধিনায়ক সৌরভের প্রিয় সেনানীর তালিকায় জুড়ে গিয়েছিল হায়দরাবাদি ভিভিএসের নাম।

তাইতো এদিন সংবর্ধনা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানেও ভিভিএস’কে পাশে নিয়েই মহারাজ সদর্পে ঘোষণা করলেন, ‘লক্ষ্মণই ছিল অধিনায়ক সৌরভের লাইফ সেভার।’ অর্থাৎ বাইশ গজে অধিনায়ক সৌরভ যখনই বিপদে পড়েছেন, চওড়া হয়ে উঠেছে হায়দরাবাদির ব্যাট। তা সে ঘরের মাঠে ইডেন টেস্টই হোক কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ। অবস্থা এমনই ক্রমে প্রিয় অধিনায়ক সৌরভের হোমগ্রাউন্ড ইডেন গার্ডেন্সই পয়মন্ত মাঠ হয়ে উঠল ভঙ্গিপুরাপ্পু ভেঙ্কট সাই’য়ের কাছে। তাই কলকাতায় এসে লক্ষ্মণ যে নস্ট্যালজিক হবেন, পুরনো স্মৃতিতে ডুব দেবেন সেটাই স্বাভাবিক। মহারাজের সংবর্ধনা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে এদিন লক্ষ্মণ জানালেন, ‘ক্রিকেটার হিসেবে সৌরভ স্পেশাল, কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে সৌরভ আরও আরও স্পেশাল।’

বাইশ গজ থেকে লক্ষ্মণ ছুটি নিয়েছেন অনেকদিন, কিন্তু প্রিয় অধিনায়কের সঙ্গে, প্রিয় মাঠের সঙ্গে ভেরি ভেরি স্পেশাল লক্ষ্মণ এখনও জুড়ে রয়েছেন নিবিড়ভাবে। বাংলার ব্যাটিং পরামর্শদাতা হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন তিনি। গোটাটাই যে সৌরভের মস্তিষ্কপ্রসূত, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে তাঁর বিশ্বস্ত সেনানী, একদা ‘লাইফ সেভার’ লক্ষ্মণ দায়িত্ব নিক হায়দরাবাদে ক্রিকেটেরও। হায়দরাবাদ ক্রিকেট অ্যাসসিয়েশনের নবনিযুক্ত প্রেসিডেন্ট মহম্মদ আজহারউদ্দিনের কাছে এদিনের অনুষ্ঠানে আর্জি রাখলেন সৌরভ। লক্ষ্মণের পাশাপাশি এদিন সৌরভের সংবর্ধনা জ্ঞাপন মঞ্চ আলো করে ছিলেন এইচসিএ’র নয়া প্রেসিডেন্টও।

আর্জির পরপ্রেক্ষিতে মজার ছলে আজহার সৌরভকে বলেন, ‘আমি কী করে ওকে নেবো, তুমি তো ওকে নিয়ে নিয়েছো।’ পালটা সৌরভ আজহারকে বলেন, প্রয়োজনে লক্ষ্মণকে আমরা ভাগ করে নিতেও প্রস্তুত।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.