তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: দেড় মাসেরও বেশি লকডাউনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে পড়েছেন অসংখ্য পরিযায়ী শ্রমিক। সম্প্রতি প্রশাসনিক উদ্যোগে তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা হয়েছে, তেমনি কেউ কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে গাঁটের কড়ি খরচ করে বাড়ি ফিরছেন।

নিজেদের জমানো টাকা খরচ খরচ করে বাঁকুড়ার সারেঙ্গার চিংড়া গ্রামের এমনই তিন যুবক চেন্নাই থেকে বাড়ি ফিরেছেন। বাড়ি ফিরেও যে তাঁরা খুব নিশ্চিন্ত আর নিরাপদে আছেন এমনটা নয়। প্রশাসন তাঁদের প্রত্যেককে আগামী ১৪ দিন ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়ে দায় সেরেছে বলে অভিযোগ।

তাঁদের বাড়িতে আলাদাভাবে থাকার জায়গা নেই। ফলে অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে গ্রামের মানুষের তৈরি করে দেওয়া মাঠের মাঝে একটি সেচ ক্যানেলের পাশে অস্থায়ী তাঁবুতে জায়গা হয়েছে তাঁদের।

বর্তমান সময়ে প্রায় প্রতিদিন কালবৈশাখীর তাণ্ডব, মাঠে ঘাটে সাপের উপদ্রব এসব ভয়ভীতি উপেক্ষা করেই মাঠের ওই অস্থায়ী তাঁবুতে দিন কাটছে চিংড়ার বাড়ি ফেরৎ তিন পরিযায়ী শ্রমিকের।

গ্রামবাসী সন্দীপ বলেন, গ্রামের সকলের সুরক্ষার কথা ভেবেই প্রাকৃতিক দূর্যোগ উপেক্ষা করেই এখানে থাকতে হবে। ওদের সমস্যার কথা বুঝতে পেরেও কিছু করার নেই। প্রশাসনের কাছে এবিষয়ে বারবার দরবার করেও কোন লাভ হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, আমরা গ্রামের সবাই মিলে এই অস্থায়ী কোয়ারেন্টাইন সেন্টার তৈরি করেছি।

চেন্নাই ফেরৎ ‘পরিযায়ী শ্রমিক’ প্রশান্ত নন্দীর কথায়, লকডাউনের কারণে আমাদের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দূরবস্থার মধ্যে আমরা পড়েছিলাম। অবশেষে মাথা পিছু প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ করে আমরা বাড়ি ফিরে আসি। এখানে আসার পর প্রশাসনিকভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশ দেওয়া হয়। বাড়িতে আলাদা থাকার মতো জায়গা না থাকায় এই মাঠের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। করোনার হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে বিষাক্ত সাপের কামড়ে প্রাণটা না যায় এই দুশ্চিন্তায় এখন দিন কাটছে। বিষয়টি স্থানীয় ব্লক প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। গ্রামবাসী ও বাড়ি ফেরৎ তিন পরিযায়ী শ্রমিকের অভিযোগ প্রসঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁদের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প