ইম্ফল: সত্যি, একটা জয় যেন সবকিছুই বদলে দিতে পারে। নেরোকা ম্যাচ শেষে অফিসিয়ালদের সঙ্গে হাসিঠাট্টায় মজে মাঠ ছাড়ছিলেন তৃপ্ত আলেজান্দ্রো। দেখে বোঝার উপায় নেই যে এই মানুষটাই কয়েকঘন্টা আগে ফুটবলারদের ধকল নিয়ে ম্যানেজমেন্টের উপর উগড়ে দিয়েছেন একরাশ ক্ষোভ। প্রথম দু’ম্যাচে ড্র’য়ের পর তৃতীয় ম্যাচে এসে আই লিগে প্রথম জয়। পাহাড় থেকে পুরো তিন পয়েন্ট নিয়ে কলকাতায় ফিরছে টিম ইস্টবেঙ্গল। সঙ্গে উপরি পাওনা চার-চারটি গোল। হাজার প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও চ্যালেঞ্জটা নিয়েছিলেন স্প্যানিশ বস। মঙ্গলের ম্যাচ শেষে যেন সেই চ্যালেঞ্জ জয়েরই কথা আলেজান্দ্রোর দৃপ্ত কন্ঠে।

বহুদিন পর ইস্টবেঙ্গল খেলল ইস্টবেঙ্গলের মতো। ফুল ফোটালেন জুয়ান মেরা-হাইমে কোলাডো জুটি। গত ম্যাচগুলোর তুলনায় বক্সে অনেক বেশি সপ্রতিভ দে লা এসপাদা মার্টিন। তাই নেরোকাকে গোলের বন্যায় ভাসিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ ‘বি’ দলের প্রাক্তন কোচ সাংবাদিক সম্মেলনে বললেন, ‘আমার কাছে এটা মস্ত বড় একটা ম্যাচ ছিল। ম্যাচে সবক’টা ক্ষেত্রে আমরা আধিপত্য দেখিয়েছি। আমরা ডিরেক্ট ফুটবল উপহার দিয়েছি। বিপক্ষ বক্সে আমরা বিপজ্জনক ছিলাম আজ। প্রচুর সুযোগ যেমন তৈরি করেছি তেমন গোলও করেছি। সবমলিয়ে চ্যালেঞ্জটা জিতেছি আমরা।’

ইস্টবেঙ্গলের জয় আজ এতটাই সহজ ছিল যে ম্যাচ শেষে নিশ্চিত গোল বাতিল নিয়েও বিশেষ ক্ষোভ নেই দলের অন্দরমহলে। স্প্যানিশ বসও রেফারির ভুলচুক নিয়ে বাক্য খরচ করচ করতে নারাজ। বরং নিজেদের খেলা নিয়ে আলোচনায় বেশি উৎসাহী তিনি। প্রথম ম্যাচ থেকে গোল নষ্টের কারণে লাল-হলুদ জনতার চক্ষুশূল হয়ে উঠছিলেন স্প্যানিশ স্ট্রাইকার এসপাদা মার্টিন। মঙ্গলবারের পারফরম্যান্সের মধ্যে দিয়ে কী সব সমালোচনার জবাব দিলেন স্প্যানিশ স্ট্রাইকার। উত্তরে স্প্যানিশ বস জানালেন, ‘মার্কোস গতির নিরিখে খুব দ্রুত না হলেও ওর একটা বিশেষ ক্ষমতা আছে যা আই লিগের জন্য উপযুক্ত। হাইমে-জুয়ান মেরার মতো অন্যান্য স্ট্রাইকারদের সঙ্গে ওর বোঝাপড়াটাও দারুণ। দৃষ্টিনন্দন না হলেও নম্বর ৯ হিসেবে ও দুর্ধর্ষ।’

এখানেই শেষ নয়। অ্যাওয়ে ম্যাচেও গ্যালারি ভরানোর জন্য ম্যাচ শেষে স্প্যানিশ কোচ ধন্যবাদ জানিয়ে গেলেন দলের সদস্য-সমর্থকদের। বলে গেলেন, সমর্থকরাই ক্লাবের আসল সম্পদ এবং আমাদের স্থান ওদের পরে। সমর্থকরাই দলের এক নম্বর। স্পিরিটটাই আসল রাজা।’

উল্লেখ্য, নেরোকাকে ৪-১ গোলে হারিয়ে লিগ টেবিলে এদিন তিন নম্বরে উঠে এল ইস্টবেঙ্গল। ৩ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৫। এদিন লাল-হলুদের হয়ে পেনাল্টি থেকে জোড়া গোল হাইমে কোলাডোর। একটি করে গোল করেন জুয়ান মেরা ও মার্কোস এসপাদা মার্টিন। যার মধ্যে ম্যাচের ৩৩ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে মেরার বাঁ-পায়ের গোল আশ্বস্ত করছে সমর্থকদের। পাশাপাশি এমন এক প্লে-মেকার বাছাইয়ের জন্য স্প্যানিশ বসকে স্যালুট ঠুকছে লাল-হলুদ জনতা। শনিবার কল্যানীতে ট্রাউ’য়ের মুখোমুখি হবেন কোলাডোরা।