নয়াদিল্লি: তিনি ছিলেন পিপলস প্রেসিডেন্ট। বেতনের টাকা দান করে দিতেন তিনি। ছাত্র আর শিশুদের নিয়েই সময় কাটত বরেন্য বিজ্ঞানী তথা ভারতের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আব্দুল কালামের।

তাঁর সম্পত্তির হিসেব দেখলে একথা প্রমাণিত হয়ে যাবে কেন তিনি পিপলস প্রেসিডেন্ট। তাঁর মৃত্যুর পর জানা গিয়েছিল, সম্পত্তি বলতে রয়েছে, প্রায় আড়াই হাজার বই, একটি হাতঘড়ি, ছটি শার্ট, চারটি ট্রাউজার, তিনটি স্যুট ও এক জোড়া জুতো। কালামের ব্যক্তিগত সম্পত্তির তালিকায় ছিল না একটিও এসি বা ফ্রিজ। গত পাঁচ দশক ধরে মানুষের সেবায় ব্রতী রাষ্ট্রপতির নিজস্ব কোনও টিভিও ছিল না।

বিলাসবহুল জীবনে বিশ্বাসী ছিলেন না কালাম। তাঁর স্থায়ী আমানতের হিসেব এখনও না মিললেও তিনি যে পরিবারের জন্য বিশেষ কিছুই রেখে যেতে পারেননি সে কথা স্বীকার করে নিয়েছে তাঁর দু’দশকের আপ্তসহায়ক শেরিদান। যেদিন রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মনোনীত হন, তার পরই ব্যক্তিগত সমস্ত সম্পত্তি লিখে দেন রামেশ্বরমের স্কুল ও অনাথ আশ্রমের নামে।

রাষ্ট্রপতি পদে মেয়াদ ফুরনোর পর তাঁর জন্য ১০ রাজাজি মার্গে একটি দোতলা বাড়ি বরাদ্দ করে সরকার। কেউ দেখা করতে এসে কোনও উপহার দিলেও নিতেন না। জানিয়েছিলেন, তাঁর মিডিয়া অ্যাডভাইসার এস এম খান।

টিভি ছিল না। কিন্তু সর্বশেষ প্রযুক্তির খবর রাখতেন রেডিও শুনে। খুঁটিয়ে পড়তেন খবরের লাগজ। তাঁর আবাসনে একটিই টিভি ছিল যেটা কর্মীরা দেখত, বলছেন এস এম খান।

৯৯ বছরের এস এম খান প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন, কালাম তাঁর দাদার শততম জন্মদিন নিয়ে খুব উৎসাহী ছিলেন। তাঁর পুরনো বাড়িতে একটি সোলার প্যানেল বসাতে পেরে খুব খুশি হয়েছিলেন।