বেঙ্গালুরু: গ্রামের সরকারি স্কুলের মেঝেতে রাত কাটিয়ে ফের নতুন গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামী। ইয়াদ্গিরি জেলার চন্দ্রাকি গ্রামের পরে এবার তাঁর গন্তব্য মানভি জেলার কারেগুড্ডা গ্রাম।

গ্রামে থাকা কর্মসূচীর প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে গ্রামের সধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে কাজ করা। এই কর্মসূচির নাম দিয়েছেন ‘ভিলেজ স্টে প্রোগ্রাম’। গত সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে এই কর্মসূচী। প্রতি মাসে দুই থেকে গ্রামে তিনি সফর করবেন বলে জানিয়েছেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামী।

সাধারণ বাসে করে চন্দ্রাকি গ্রামে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর পুত্র কুমারস্বামী। রাতে ঘুমিয়েছিলেন গ্রামেরই এক সকারি স্কুলের মেঝেতে। এবারেও তেমনই কিছু পরিকল্পনা তাঁর। মঙ্গলবার রাতের দিকে ট্রেনে করে রওনা হয়েছেন কারেগুড্ডা গ্রামের উদ্দেশ্যে। সঙ্গে রয়েছেন তাঁর সরকারের পর্যটনমন্ত্রী সা রা মহেশ।

রুপকথার গল্প বা ঠাকুরমার ঝুলিতে দেখা গিয়েছে এই ধরনের কাহিনী। প্রজাদের দুঃখ ভাগ করে নিতে মাঠে লাঙল ধরেছেন রাজা। ঠিক যেন তেমনই করতে চাইছেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামী।

তবে এই প্রকল্পের মাঝেও বিতর্ক তাঁর পিছু ছাড়ছে না। চন্দ্রাকি গ্রামের সরকারি স্কুলে মুখ্যমন্ত্রী আসছে বলে তৈরি হয়েছিল বিশেষ শৌচালয়। যা নিয়ে বিরোধী বিজেপির দাবি ছিল যে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য স্কুলের মধ্যে পাঁচ তারা হোটেলের মতো ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, “কী পাঁচ তারা হোটেলের মতো ব্যবস্থা? একটা ছোট শৌচালয় এখানে করা হয়েছে। সেটা এখানেই থাকবে আমি নিয়ে যেতে পারব না। স্কুলের বাচ্চারা এটা ব্যবহার করবে।”

অন্যদিকে, গত সপ্তাহেই পাঁচতারা হোটেলে রাত কাটিয়ে বিরোধী দলের প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী দেবেগৌড়ার পুত্র এইচ ডি কুমারাস্বামী। মোটা অঙ্কের টাকার বিল করেছেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী, এই অভিযোগ তুলে গত সোমবার তাকে প্রশ্নবাণের ফলায় বিদ্ধ করেন বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পা।

ওই দিন খোঁচা দিয়ে তিনি কুমারাস্বামীকে বলেছিলেন যারা তাঁকে কমিশন দিতে ইচ্ছুক তারাই কেবল ওই হোটেলগুলিতে যাওয়ার অনুমতি পান। কুমারাস্বামী সাফ জানিয়ে দেন, “আমি পাঁচতারা হোটেল দেখেছি এবং কুঁড়েঘর দেখেছি। আমার অন্যদের থেকে কিছু শেখার প্রয়োজন হবে না।” বিজেপি নেতার তোলা প্রশ্নের জবাবে কুমারাস্বামী বলেছেন, “আমি কি সরকারের কাছে এই জন্য কোনও বিল পেশ করেছি? এটা আমার ব্যক্তিগত বিষয়। আমি আমার বিজেপির বন্ধুদের কাছে এই বিষয়ে কোনও কৈফিয়ত দিতে রাজি নই! আমি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করি।”