বেঙ্গালুরু: শেষ হয়ে গিয়েছে যাবতীয় নাটক। অনেক জল্পনার পরেও হয়নি ঘোড়া কেনাবেচা। কংগ্রেস-জেডি(এস) জোত সরকারের পক্ষ থকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন এইচডি কুমারস্বামী। যা ঘিরে সাজো সাজো রব বেঙ্গালুরুর বিধান সৌধ সংলগ্ন এলাকা।

লোকসভা নির্বাচনের এক বছর আগের এই বিধানসভা নির্বাচনকে দিল্লি দখলের সেমি ফাইনাল বলে মনে করছিল রাজনৈতিক মহল। বিজেপি বিরোধী জোটের যাত্রাপথ কোন পথে চলবে তার প্রাথমিক প্রস্তুতি বেঙ্গালুরু থেকেই শুরু হতে চলেছে বলেও মনে করা হচ্ছে।

২২৫ আসনের কর্ণাটক বিধানসভার একটি আসন মনোনীত। বাকি ২২ আসনে নির্বাচন হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ভোট হয়েছে ২২২ আসনে। এখন দু’টি আসনে ভোট বাকি আছে। এই ২২২ আসনে ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে চলছে নাটক।

নির্বাচনের ফলে ত্রিশঙ্কু অবস্থা হয় কর্ণাটক বিধানসভার। কোনও রাজনৈতিক দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। একক বৃহত্তম দল বিজেপি ১০৪টি আসন পেলেও ম্যাজিক ফিগার ১১২ তে পৌঁছাতে পারেনি। সেই সুযোগে জোটবদ্ধ হয় ৭৮ আসন পাওয়া কংগ্রেস এবং ৩৮ আসন পাওয়া জেডি(এস)। নির্বাচনের আগে এই দুই পক্ষ ছিল যুযুধান।

একক বৃহত্তম দল হওয়ায় বিজেপি-কে শর্ত সাপেক্ষে সরকার গঠনের আহ্বান জানান রাজ্যপাল। সেই সুযোগে শপথও নিয়ে নিয়েছিলেন বিএস ইয়েদুরাপ্পা। এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায় কংগ্রেস। আদালত সরকার গঠনের জন্য আস্থা ভোটের নির্দেশ দেয়। আস্থা ভোট হওয়ার আগেই ইস্তফা দিয়ে দেন ইয়েদুরাপ্পা। পথ প্রশস্ত হয় কংগ্রেস-জেডি(এস) সরকার গঠনের।

এই ঘটনাকে গণতন্ত্রের জয় বলে দাবি করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাহুল গান্ধীর জয় বলেও দাবি করছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। তবে বিজেপি শিবিরের দাবি, কর্ণাটকে বিজেপি-র সরকার গড়তে না পারা অমিত শাহের ব্যর্থতা। এর মধ্যে রাহুল গান্ধীর কোনও ভূমিকা নেই। খুব শীঘ্রই কর্ণাটকে পদ্ম ফুটবে বলেও দাবি করেছে গেরুয়া শিবির।

দ্রাবিড় ভূমিতে বিজেপি-র বিজয়রথ আটকে যাওয়ায় স্বভাবতোই খুব খুশি বিরোধী শিবির। আঞ্চলিক দলের হাত শক্ত হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মডেল নিয়েই ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করা উচিত বলে দাবি করেছেন তিনি। মমতার সমর্থনে পাশে দাঁড়িয়েছে সপা, বিএসপি, আরজেডি, আপ-এর মতো রাজনৈতিক দলগুলি। কর্ণাটক কংগ্রেসও মমতাকে সমর্থন করতে প্রস্তুত বলে Kolkata24x7-কে জানিয়েছিল।

সেই জোটের যাত্রাপথের শুভারম্ভ বুধবার বেঙ্গালুরু থেকে হতে চলেছে। এমনই মত রাজনৈতিক মহলের। উপস্থিত থাকবেন সোনিয়া ও রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মায়াবতী, অখিলেশ যাদব, চন্দ্রবাবু নাইডু এবং অরভিন্দ কেজরিওয়াল।

বুধবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ বেঙ্গালুরুর বিধান সৌধ প্রাঙ্গনে হবে সেই ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান।