নয়াদিল্লি: করোনা অতি মহামারীর জন্য উদ্ভূত আর্থিক সংকট কালেও এইচসিএল টেকনোলজিস তার ১৫০,০০০ কর্মীদের বেতন কাটছে না। শুধু তাই নয় দেশের তৃতীয় বৃহত্তম সফটওয়্যার পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা প্রতিশ্রুতি রাখবে গত বছরের জন্য বোনাস প্রদান করার ব্যাপারে ।

এর আগেই অবশ্য এইচসিএল টেকনোলজিস জানিয়েছিল, নতুন ১৫,০০০ কর্মসংস্থানের যে অফার দেওয়া হয়েছিল তা রাখা হবে। সংস্থার মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান ভিভি অ্যাপ্পারাও জানিয়েছেন, তাদের কোনো প্রকল্প বাতিল হয়নি, তবে কিছু নতুন প্রকল্পের কাজ শুরু হতে দেরি হচ্ছে। নতুন কিছু কাজের জায়গা দেখা যাচ্ছে। এখনই প্রায় খোলাখুলি ভাবে ৫০০০ জনের প্রয়োজন। ফলে কিছু কিছু জায়গার জন্য তারা লোক নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, উৎপাদন এবং পরিবহন ক্ষেত্রকে একটা চাপের মুখোমুখি হতে হচ্ছে যেহেতু তাদের ক্লায়েন্টরা একটা কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। নয়ডায় সদর দপ্তর থাকা এই সংস্থা তাদের বার্ষিক অ্যাপ্রাইসাল প্রসেস জুলাই নাগাদ করে নেবে বলে তিনি জানিয়েছেন। সাধারণত তাদের সংস্থায় কাজ ছেড়ে দেবার প্রবণতা ১৬-১৭ শতাংশ, এটা অবশ্য ৫০ শতাংশ কমে গিয়েছে গত মাসে বলে তিনি জানান। ফলে কাজ ছাড়ার প্রবণতা কমায় সে দিক দিয়ে নিয়োগের চাহিদা কমেছে। তবে একেবারে নতুন নিয়োগের ব্যাপারে চাহিদা আগের মতোই রয়েছে।

তবে আবার এটার নাটকীয় ভাবে পরিবর্তন হবে যখন অতি মহামারী চরমে পৌছাবে বলে তিনি জানান। এই অবস্থায় তাদের সংস্থা বেতন কাটতে অথবা বকেয়া বোনাস দেওয়া স্থগিত রাখতে চায় না বলে আপ্পা রাও জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, ২০০৮ সালের সংকট অথবা পুরনো যেকোনো সংকটে তাদের সংস্থার দর্শন হলো কর্মীদের বেতনে কোনও রকম হাত না দেওয়া।

দেশজুড়ে চলা এই লক ডাউনের সময়েও গত মাসে তাদের সংস্থার কর্মীদের উৎপাদনশীলতা ১৬-১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আপ্পারাও জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই তারা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করছেন কাজের প্রক্রিয়ার বিষয় আর সেখানে ভবিষ্যতে ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করানোর কথা ভাবা হচ্ছে।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প