ভোপাল: সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই রাজ্য সরকারের। এই দাবি তুলে রাজ্যপালের দ্বারস্থ হলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। যার জেরে অস্থিরতা শুরু হল মধ্যপ্রদেশের রাজনৈতিক মহলে।

এক্সিট পোলের সমীক্ষায় ফের একবার মোদী সরকারের ইঙ্গিত পেয়েছে বিজেপি শিবির। এরপর থেকেই হারানো রাজ্য ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে পদ্ম শিবির। যার প্রথম ধাপ দেখা গিয়েছে মধ্যপ্রদেশে।

মধ্যপ্রদেশের বিরোধী দলনেতা গোপাল ভার্গব সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করার জন্য রাজ্যপাল আনদনীবেন প্যাটেলের কাছে আবেদন করেছেন। তিনি বলেছেন, “বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করুক সরকার।” একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “এমনিতেই মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস সরকারের পতন ঘটবে। আমরা ঘোড়া কেনাবেচায় বিশ্বাসী নই। তবে ওদের চলে যাওয়ার সময় হয়েছে বলেই মনে করি।”

এক্সিট পোলের ফলাফল অনুসারে ওই রাজ্যে গেরুয়া সুনামি আসতে চলেছে। দীর্ঘদিন দিন ধরে মধ্যপ্রদেশের ক্ষমতায় ছিল বিজেপি। গত ডিসেম্বর মাসে ওই রাজ্যে সরকার গঠন করে কংগ্রেস পরিচালিত জোট। ২৩০ আসনের মধ্যপ্রদেশ বিধানসভা একক ক্ষমতা দখল করতে পারেনি কংগ্রেস। চার নির্দল, দুই বিএসপি এবং একজন সপা বিধায়কের সমর্থন এবং নিজেদের ১১৪ জন বিধায়ক নিয়ে সরকার গঠন করেছেন কংগ্রেস নেতা কমলনাথ।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন রাজ্যের ক্ষমতা দখল করে বিজেপি। গত ডিসেম্বর মাসে সেই মসৃণ যাত্রাপথে প্রথম বড় ধাক্কা লাগে। তিন রাজ্য হাত ছাড়া হয় বিজেপি। অল্পের জন্য হাত ছাড়া হওয়া মধ্যপ্রদেশে তাদের হার হয়নি বলেই দাবি করে পদ্ম শিবির। এই একই সুর শোনা গিয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখেও। অল্প সময়ের মধ্যে ওই রাজ্যে ফের সরকার গঠনের দাবিও করা হয়েছিল বিজেপির পক্ষ থেকে।

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের এক্সিট পোলের ফলাফল দেখে বেশ উচ্ছস্বিত ওই রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্ব। কারণ মধ্যপ্রদেশের প্রায় সব লোকসভা আসনেই পদ্ম ফুটতে চলেছে বলে দাবি করেছে বুথ ফেরত সমীক্ষা। সেই কারণেই লোকসভা ভোটের এক্সিট পোল দেখেই মধ্যপ্রদেশে সরকার গঠনের পরিকল্পনা করে ফেলেছে বিজেপি।

যদিও বিরোধী দলের হুমকিতে ভীত নয় শাসক কংগ্রেস। ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ বিরোধী দলনেতার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলেছেন, “প্রথম দিন থেকেই ওরা(বিজেপি) সরকার ফেলে দেওয়ার কথা বলছে। গত পাঁচ মাসে আমি চারবার সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিয়েছি। আবারও প্রমাণ দিতে প্রস্তুত, কোনও সমস্যা নেই। সরকারকে বিড়ম্বনায় ফেলতে ওরা সব ধরণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের সরকার ফ্লোর টেস্টের জন্য প্রস্তুত।”