স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বাবার অবর্তমানে পৈত্রিক ভিটেতে ছেলের অধিকার৷ এটাই স্বাভাবিক বিষয়৷ কিন্তু বাঙ্গুরের রাজেশ ঘোষের ক্ষেত্রে বিষয়টা উলটো৷ তিনি তাঁর নিজের বাড়িতে বাবার অবর্তমানে ক্রীতদাসে পরিণত হয়েছে৷

রাজেশ বাবু জানিয়েছেন যে বাবার সম্পূর্ণ বাড়িটি তিনি, তাঁর বোন বা মা কেউ পায়নি৷ কারণ প্রমোটার মহেন্দ্র অগরওয়াল তাঁর সম্পূর্ণ বাড়িটি দখল করেছে৷ ২০১৮ সালের পাঁচ নভেম্বর থেকে তিনি তাঁর পৈতৃক ভিটেতে থাকতে শুরু করেন৷ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বাড়ির প্রথম ও দ্বিতীয় তলা তিনি পেয়েছেন৷

কিন্তু তাও তাঁকে প্রথম তলার বারান্দায় থাকতে হত৷ এমনকি তাঁর শোয়ার ঘর তালা দিয়েছে রেখেছ৷ মাঝখানের বড় ঘরটিতে পার্টিশন দিয়ে অফিস ও কনফারেন্স ঘর করা হয়েছে৷ রান্নাঘরটি ভেঙে তৈরি করা হয়েছে স্টোর রুমে৷ আরেকটি ঘর তালা দিয়ে রেখেছে৷

তাঁর কথায়, এই সবের জন্য বাড়ির একটি ঘরও বসবাসের উপযুক্ত নয়৷ বাথরুমে জলের পরিষেবা বন্ধ করে রেখেছে৷ কেউ যদি বাড়িতে না থাকে বিভিন্ন অছিনায় বারান্দায় চলে আসে তাঁরা৷ এমনকি সিসিটিভি দিয়ে সর্বক্ষণ তাঁদের উপর নজরদারি চালাচ্ছে৷ প্রথম ও দ্বিতীয় তলার মধ্যখানে দরজার কবজা ভেঙে দিয়েছে৷ তাঁদের শোওয়ার ঘরেও সিসিটিভি লাগানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন রাজেশবাবু।

একই সঙ্গে তিনি আরও অভিযোগ করেছেন যে দরজার কবজা ভেঙে দেওয়ার ফলে সেখান দিয়ে সবসময় যাতায়াত চালাচ্ছে৷ সিঁড়িতে লোহার গ্রিল ও গেটে তালা না দেওয়ার জন্য লোহার চেন লাগিয়ে নিজেরা তালা দিয়ে রেখেছে৷ এমনকি রাতে নিজের সুরক্ষার কথা ভেবে রাজেশ বাবুকে তালা দিতে দিচ্ছে না৷ অফিস চালাচ্ছে বলে সকাল ৮ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত গেট খুলে রাখছে৷

এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝে নিজের বাড়িতে স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে খুবই অনিশ্চিতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান রাজেশবাবু৷ এমনকি মোবাইল ও ক্যামেরা পর্যন্ত ভেঙে দিয়েছে তাঁরা৷ এই অবস্থায় যে কোন রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি৷ এমনকি তিনি সন্দেহ করছেন তাঁকে প্রাণে মেরে দিতে পারে তাঁরা৷ তাঁকে পুলিশও যথাযথ সহযোগিতা করছে না বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী রাজেশ ঘোষ।

এই অবস্থায় রাজেশবাবু এবং তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলা পক্ষ নামক একটি সংগঠন। দখলদারের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রতিবাদ করলে আক্রান্ত হতে হয় বাড়ির মালিক রাজেশ ঘোষকে। বাংলা পক্ষের একদল কর্মী এই বিষয়ে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জানায়। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দায়ের হয় লিখিত অভিযোগ। লেক টাউন থানার পক্ষ থেকে সমগ্র বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলা পক্ষের সদস্য কৌশিক মাইতি।

বাংলা পক্ষ