নিউজ ডেস্ক: অবশেষে কেটে গেল জটিলতা। যার জন্য সময় লাগল সাত দিন। আন্দোলন প্রত্যহার করে নিলেন জুনিয়র ডাক্তারেরা।

চলতি মাসের ১০ তারিখে রোগী মৃত্যু ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে কলকাতার এনআরএস হাসপাতাল। অভিযোগ, ডাক্তারদের উপরে হামলা চালানো হয়। প্রায় ২০০ জন দুষ্কৃতী হামলা চালায় এবং ওই ঘটনায় গুরুতর জখম হন দুই ডাক্তার।

এর পর থেকেই শুরু হয় জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন। যা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ছড়িয়ে পরে সমগ্র রাজ্যে। প্রবল প্রতিকূল অবস্থার সম্মুখীন হতে হয় সাধারণ মানুষকে। রাজ্যের বাইরেও বিভিন্ন হাসপাতালে ডাক্তার পেটানোর ঘটনার প্রতিবাদে সরব হতে শুরু করে।

এই নিয়ে জটিলতা ক্রমশ বাড়ছিল। তবে পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল এই সমস্যা সমাধানের জন্য। সোমবার বিকেলের দিকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন জুন্যর ডাক্তাররা। নবান্নে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকেই কেটে গিয়েছে যাবতীয় জটিলতা।

পড়ুন: বাংলার ডাক্তারদের সুরক্ষায় CISF-এর সিকিউরিটির দাবি NMO-র

এদিনের বৈঠকে এক জনিয়র ডাক্তার বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে তবু আপনি হাসপাতালে এলেন না৷ এটায় আমরা দুঃখ পেয়েছি৷’ মুখ্যমন্ত্রী জবাব দেন, ‘আমি নিশ্চই যেতাম৷ কিন্তু, প্রথম দিনই আমি কথা বলতে চেয়েছিলম৷ তোমাদের মধ্যে কেউ কথা বলতে চায়নি৷ আমি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, পুলি কমিশনার ও সরকারি আধিকারিকদের পাঠিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম৷ এরই মধ্যে কেউ কেউ ভুল বোঝাচ্ছেও৷ যাই হোক, ওসব ছেড়ে দাও৷ তোমরা ভালো ছেলে-মেয়ে৷ আমি চাই সবাই ভোলে করে কাজ করুক৷ আমার নজর রয়েছে সবদিকে৷ পরিবহও সুস্থ্য হয়ে উঠুক৷ আমি সময় সুযোগ মতো সব হাসপাতলেই যাব৷’’

এদিনের বৈঠকে পরিবহকে দেখতে যাওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন জুনিয়র ডাক্তাররা। এনআরএস কাণ্ডে গুরুতর আহত জুনিয়র ডাক্তার পরিবহ মুখোপাধ্যায়কে দেখতেই সেখানে ছুটে গিয়েছেন তিনি। এদিন জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে বলে আগেই জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে গত শনিবার তাঁর পরিবহকে দেখতে যাওয়ার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। সেই খবর অনুযায়ী, নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয় গোটা হাসপাতাল চত্বর। পৌনে দুটো নাগাদ মুখ্যমন্ত্রীর বেরনোর কথা ছিল কালীঘাটের বাড়ি থেকে। আর সেখান থেকেই মল্লিকবাজারের নিউরোসাইন্সে যাওয়ার কথা ছিল মমতার।