নিউজ ডেস্ক: কোনও ঘুষ নেওয়া হয়নি। নারদ কেলেঙ্কারিতে দলের নির্দেশেই টাকা নিয়েছিল তৃণমূলের নেতা থেকে শুরু করে মন্ত্রী, মেয়র এবং সাংসদেরা। এমনই দাবি করেছেন রাজ্যের শাসকদলের এক হেভিওয়েট নেতা। যিনি নারদ কাণ্ডে অভিযুক্ত।

নির্বাচনী তহবিল ভরাতে দলের নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তৃনমুলের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে। সেই কারণেই প্রাক্তন নারদ কর্তা ম্যাথু স্যামুয়েলের থেকে টাকা নিয়েছিলেন বলে সিবিআই কর্তাদের জানিয়েছেন ঘাস ফুল শিবিরের ওই নেতা। ২০১৫ সালে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের থেকে পাওয়া সেই চিঠিও সিবিআইয়ের কাছে জমা দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন- নীরব মোদীর ২৮৩ কোটির সুইস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে। একটি সর্বভারতীয় বাংলা দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন। সিবিআই সূত্র উল্লেখ করে ওই প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে যে ণ্ডে অভিযুক্ত সেই হেভিওয়েট নেতা সিবিআইকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগত ভাবে ওই টাকা নেননি। শীর্ষ নেতার নির্দেশ অনুযায়ী নির্বাচনী তহবিলের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। কোনও ভাবেই ঘুষ নেননি।

তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা এই একই বক্তব্য ম্যাথু স্যামুয়েলকে জানিয়েছিলেন। তিনি প্রাক্তন নারদ কর্তাকে জানিয়েছিলেন যে দলের নেতাদের হয়ে তিনি টাকা সংগ্রহ করে থাকেন। এই তথ্য সিবিআই কর্তাদের জানিয়েছেন ম্যাথু। সম্প্রতি নারদ মামলায় ম্যাথুকে জেরা করে সিবিআই। সেই সময়েই এই বিষয়টি নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। এবং তখনই সেই সকল বিষয় উঠে আসে।

আরও পড়ুন- শ্রমিক নিয়োগে কাটমানি, অভিযুক্ত জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতির স্বামী

২০১৬ সালের মার্চ মাসে রাজ্যের বিধানসভা ভোটের আগে ফাঁস হয় নারদ ভিডিও। যা নিয়ে রাজনোইতিক বিতর্ক কিছু কম হয়নি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, ম্যাথু স্যামুয়েল ওই টাকা বিলি করেছিলেন ২০১৪ সালে। নারদ কাণ্ড ফাঁস হওয়ার সময়েই তিনি তা দাবি করেন। কিন্তু, উল্লিখিত নেতা ২০১৫ সালের চিঠি পেশ করে দাবি করছেন যে দলের নেতার নির্দেশে তিনি টাকা নিয়েছিলেন।

ওই বাংলা দৈনিকের প্রতিবেদনে নারদ কাণ্ডে জড়িত কোনও তৃণমূল নেতার নামের উল্লেখ করা হয়নি। কোন শীর্ষ নেতার নির্দেশে তিনি টাকা নিয়েছিলেন সেই কথাও লেখা হয়নি। তবে দু’জন তৃণমূলের দাপুটে নেতার উল্লেখ করা হয়েছে সেই প্রতিবেদনে। তাঁরা হলেন, কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্রোপাধ্যায় ও প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র ইকবাল আহমেদ। নারদ কেলেঙ্কারিতে এই দু’জনেই অভিযুক্ত।