কলকাতা: ক্লাবকে চ্যাম্পিয়ন করে দেশে ফিরেছেন এক মাস হয়ে গিয়েছে। এখনও অবধি বাবা-মায়ের মুখ দেখা হয়ে ওঠেনি এটিকে’র স্প্যানিশ মিডফিল্ডার এডু গার্সিয়ার। কারণটা অবশ্যই অতিমারী নোভেল করোনা ভাইরাস। ফাইনালে দলের হয়ে গোল করে এবং দলকে চ্যাম্পিয়ন করে ভেবেছিলেন দেশে ফিরে ঘরের মানুষদের সঙ্গে একপ্রস্থ সেলিব্রেশন সারবেন। কিন্তু কোথায় কী? মৃত্যুপুরী স্পেনে স্ত্রী ও আটমাসের কন্যাসন্তানকে নিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে গার্সিয়া।

সম্প্রতি টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্প্যনিশ মিডিও দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বিগ্ন। চাইছেন সবকিছু যেন যত দ্রুত সম্ভন যেন স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং তিনি মা-বাবার সঙ্গে যেন দেখা করতে থাকেন। উদ্বিগ্ন এডু জানিয়েছেন, ‘করোনার জেরে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলির মধ্যে অন্যতম স্পেন। কিন্তু আমি যে শহরে থাকি সেই জারাগোজার অবস্থা ততটা খারাপ নয়। তবু সতর্কতা অবলম্বন করে সরকারি সমস্ত নির্দেশিকা মেনে চলছি।’

কিন্তু দেশে ফিরে একমাসেরও বেশি সময় মা-বাবাকে দেখতে না পেয়ে মন একেবারেই ভালো নেই ২৯ বছরের মিডফিল্ডারের। এডুর কথায়, ‘সত্যি বলতে তোমাকে যখন ফুটবলের কারণে পরিবার-পরিজন, বন্ধুদের ছেড়ে লম্বা সময় দূরে থাকো তখন দেশে ফিরে তাদের সঙ্গেই যদি সময় কাটাতে না পারো তাহলে তার চেয়ে দুঃখের আর কিছু হয় না। এক মাসে বাড়ি ফিরলেও এখনও মা-বাবা, বন্ধু-বান্ধবের মুখ আমি দেখিনি। স্ত্রী-কন্যার সঙ্গে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছি, কিন্তু পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে মন ছটফট করছে।’

লকডাউন চলায় বাড়ির বাইরে বেরোতে পারছেন না কিন্তু ঘরে তাঁর কাজের অভাব নেই বলেই জানিয়েছেন গার্সিয়া। আট মাসের কন্যাসন্তানের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন পাশাপাশি ওয়েব সিরিজ দেখেও সময় কাটছে তাঁর। একইসঙ্গে লকডাউন পিরিয়ডে রান্নার শখও মিটিয়ে নিচ্ছেন তিনি। পৃথিবীজুড়ে অন্যান্য মেজর স্পোর্টস ইভেন্টের সঙ্গে তাঁর দেশের প্রিমিয়র ডিভিশন ফুটবল লিগ লা-লিগাও অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত। তবে প্রাক্তন বেঙ্গালুরু এফসি ফুটবলার আশাবাদী পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে লা-লিগা মরশুম সম্পূর্ণ হবেই।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।