নয়াদিল্লি: ভারতীয় ক্রিকেটে নিজের ছাপ রাখার পরে রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন প্রাক্তন ভারতীয় ওপেনার গৌতম গম্ভীর। বিজেপির টিকিটে নির্বাচনেও দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। পূর্ব দিল্লি থেকে তিনি নির্বাচনে জয়ীও হয়েছিলেন। এর আগে তিনি নানাকারণে খবরের শিরোনামে এলেও এবারে তিনি আবারও এলেন শিরোনামে তবে অন্য কারণে।

দিওয়ালির পরে দিল্লির পরিবেশের অবস্থা ভয়ঙ্কর ভাবে খারাপ হয়ে গিয়েছিল। পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়েছিল বন্ধ রাখতে হয়েছিল সেখানকার স্কুল। অনেকেই দিল্লি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে চাইছিলেন। বাতাসের সূচকও আশার আলো খুব একটা দেখাতে পারেনি। পরবর্তীকালে কিছুটা হলেও দূষণের মাত্রা কমলেও একেবারেই কমে যায় নি। আর এই নিয়ে চিন্তিত সকল রাজনৈতিক দলগুলিও। দিল্লির বাতাসের পরিস্থিতি সংক্রান্ত মিটিংয়ে উপস্থিত না থাকার কারণে বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের এই ওপেনারকে বিঁধলেন আম আদমি পার্টি। বিভিন্ন জায়গায় দেওয়া হল নিখোঁজ গম্ভীরের পোস্টার।

হাসিখুশি মুখের গৌতম গম্ভীরের একটি ছবি দিল্লির বেশ কিছু গাছে লাগিয়ে তার নীচে বড় বড় করে লাল কালিতে লেখা রয়েছে কেউ কি দেখেছেন এনাকে? শেষবার দেখা গিয়েছিল ইন্দোরে জিলিপি খেতে। দিল্লিবাসী এনাকে খুঁজছে। একজন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে গম্ভীর ইন্দোরে ভারত এবং বাংলাদেশের ম্যাচ চলাকালীন কমেন্টেটার হিসেবে ছিলেন। যে কারণে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি। আর সেই কারণে দিল্লির আপ দলের বিরাগভাজন হয়েছেন তিনি।

ভারতীয় দলের আর এক প্রাক্তন ব্যাটসম্যান ভিভিএস লক্ষণ শুক্রবার গম্ভীরের ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করেছিলেন। আর তারপর থেকেই আপ দল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায় ইন্দোরে কমেন্ত্রি বক্সে বসে মজা না করে দিল্লির বায়ুদূষণ সংক্রান্ত বৈঠকে থাকতে পারতেন। যা এই মুহূর্তে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যদিও তার পরবর্তীকালে এই ক্রিকেটার সাংসদ তার মন্তব্য পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, আমার এলাকার প্রতি আমার দায়িত্ব কাজ দেখেই ঠিক করা হোক। অর্থাৎ উত্তরে যে তিনি সেখানকার সরকার অর্থাৎ আপ দলকেই বিধেছেন তা বোঝা গিয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন” আমি টাকা রোজগার করার জন্য রাজনীতিতে আসিনি। কিন্তু আমারও পরিবার রয়েছে। আমি খেটে রোজগার করাতে বিশ্বাস রাখি।”

যদিও এক আপ সাংসদ গম্ভীরের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জানিয়েছেন, ” আমাদের সাংসদ জানিয়েছেন তিনি খেটে রোজগার করাতে বিশ্বাস রাখেন। কিন্তু একজন সাংসদ হিসেবেও তিনি তো বেতন পান।” অর্থাৎ এই বিষয়টিকে আপ দল যে একদমই লঘু করে দেখছে না তা বোঝা গিয়েছে। এই বৈঠকে কেবলমাত্র তিনি একাই নন যে অনুপস্থিত ছিলেন ডিডিএ ভাইস চেয়ারম্যান তরুন কাপুর সফ অনেকেই ছিলেন না ওই বৈঠকে। দিল্লির বায়ুদূষণ সংক্রান্ত বৈঠকে ৮ নভেম্বর যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ করা হয়েছিল। কিন্তু দেখা গিয়েছিল অধিকাংশই ছিলেন অনুপস্থিত। এই মুহূর্তে দিল্লিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য জোড় বিজোড় নীতি জারি রেখেছে দিল্লি সরকার।