কলকাতা: আরপিএসজি’র সঙ্গে ক্লাবের সংযুক্তিকরণের পর রবিবার চলতি মরশুমে আই লিগের প্রথম বড় ম্যাচ খেলতে নামছে মোহনবাগান। ৭ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে শীর্ষে থাকাই নয়, মোহনবাগানের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের জন্যই আই লিগের প্রথম ডার্বির আগে অ্যাডভান্টেজ বাগান। কিন্তু দিনদু’য়েক আগে সঞ্জীব গোয়েঙ্কার কোম্পানির সঙ্গে আগামী মরশুম থেকে গাঁটছড়া বাঁধার ঘোষণা ফোকাস নড়িয়ে দেবে না তো মহারণের আগে?

এমনই প্রশ্ন ইতিউতি ঘুরপাক খাচ্ছে বড় ম্যাচের আগেরদিন। এই প্রশ্নে সদস্য-সমর্থকরা আবার দ্বিধাবিভক্ত। কেউ বলছেন বড় ম্যাচের ঠিক আগে এমন ঘটনা ফোকাস নড়িয়ে দিতে পাড়ে কিবুর দলের। আবার কারও মতে দীর্ঘদিন হন্যে হয়ে ঘুরতে থাকা বাগান ইনভেস্টর পেয়ে উজ্জীবিত ফুটবলই উপহার দেবে। ফোকাস যাতে বড় ম্যাচে ষোলোআনা বজায় থাকে সেজন্য শুক্রবারই অনুশীলনে এসে ফুটবলারদের সঙ্গে কথা বলে গিয়েছিলেন অর্থসচিব দেবাশিস দত্ত। আর মাঠের বাইরে এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খেলেও মাঠের ভিতর আঁচ পড়তে দিতে নারাজ বাগানের স্প্যানিশ হেডস্যার।

ম্যাচের আগেরদিন সাংবাদিক সম্মেলনে কিবু সাফ জানালেন, ‘আমরা গত ম্যাচগুলোতে ভালো ফল করে এই ম্যাচে মাঠে নামছি। তাই আমাদের ফোকাস শুধু ম্যাচেই। আমাদের কাছে এই ম্যাচ ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ কারণ আমরা শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলতে নামছি।’ একইসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা এগিয়ে রাখলেও এমন ম্যাচের আগে নিজেদের এগিয়ে রাখার বিষয়ে পক্ষপাতী নন কিবু। তিনি জানালেন সব ডার্বিই আমার কাছে যেমন স্পেশাল, ঠিক তেমনই দার্বিতে কেউ কখনও এগিয়ে থেকে মাঠে নামে না। গোটা পৃথিবীর নিয়ম এটা। তবে গোল করার একাধিক লোক যে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে তাঁকে সেটা মোহন কোচের হাবেভাবেই স্পষ্ট।

ফ্রান গঞ্জালেস গোলের মধ্যে রয়েছেন। কর্নার থেকে সুযোগ পেলে গোল করে যাচ্ছেন ত্রিনিদাদ ডিফেন্ডার ড্যানিয়েল সাইরাস। আর সুপার-সাব শুভ ঘোষ তো পরিবর্ত হিসেবে নেমে গোল করা একপ্রকার অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন। বড় ম্যাচে তাঁকে একাদশেও রাখতে পারেন ভিকুনা, ইঙ্গিত কিন্তু তেমনটাই। ইতিবাচক দিকগুলিকে সঙ্গী করে ম্যাচের আগেরদিন অনুশীলনেও ইতিবাচক কিবু ভিকুনা। সবমিলিয়ে গত মরশুমে জোড়া ডার্বিতে হারের বদলে নিয়ে লিগ শীর্ষে অবস্থান মজবুত করতে মরিয়া সবুজ-মেরুন।

অনেকটা উলটো মেরুতে অবস্থা করছে আলেজান্দ্রোর ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের আগেরদিন সাইয়ের রুদ্ধদ্বার অনুশীলনে স্প্যানিস বস ঝালিয়ে নিলেন সবকিছুই। কিন্তু রান্নার মশলা যে তাঁর হাতে কিবুর তুলনায় অনেকটাই কম, মানছেন অতি বড় ইস্টবেঙ্গল সমর্থকও। তবু বড় ম্যাচে যেহেতু কাউকে এগিয়ে রাখা বোকামি, তাই নতুন বছরে জয় না পাওয়া ইস্টবেঙ্গল ডার্বি জয়কে হাতিয়ার করেই ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া। গত ম্যাচে ডিফেন্সে জঘন্য ফুটবল খেলা মার্তি ক্রেসপির সঙ্গে বাড়তি আলোচনা সারতেও দেখা যায় আলেজান্দ্রোকে।

সাংবাদিক সম্মেলনেও আলে বলে গেলেন, ‘মোহনবাগান আমাদের তুলনায় অনেক বেশি অ্যাটাকিং ফুটবল খেলছে। তাই আমাদের ডিফেন্সের দিকে বাড়তি ফোকাস থাকবে।’ একইসঙ্গে পরপর দু’ম্যাচে হার কতটা প্রভাব ফেলবে বড় ম্যাচে। উত্তরে স্প্যানিশ কোচ বলেন, ‘একটি ম্যাচে হার পরের ম্যাচে দলকে ভালো খেলার প্রেরণা জোগায়। আমার দলের প্রতি আমার বিশ্বাস রয়েছে। এটা এমন একটা ম্যাচ যেখানে অতীতের রেকর্ড কোনও কাজে আসে না। বোরহাকে না পাওয়ার মতো বিষয়গুলো রয়েছে, কিন্তু সবকিছুর পরেই আমরা লড়াই করছি।’

আলের আরও সংযোজন, ‘আমরা প্রচুর সুযোগ তৈরি করছি। কোনও সময় সেগুলো কাজে লাগছে কোনও সময় লাগছে না। সবমিলিয়ে আমরা ভালো সংখ্যায় গোল করেছি। তবে আরও ভালো পারফর্ম করতে ও গোল করতে সক্ষম ইস্টবেঙ্গল।’

মোহনবাগানের সম্ভাব্য একাদশ: শঙ্কর রায় (গোলরক্ষক), আশুতোষ মেহতা, ড্যানিয়েল সাইরাস, ফ্রান মোরান্তে, ধনচন্দ্র সিং, শেখ সাহিল, ফ্রান গঞ্জালেস, শুভ ঘোষ, জোসেবা বেইতিয়া, ভিপি সুহের, বাবা দিওয়ারা।

ইস্টবেঙ্গলের সম্ভাব্য একাদশ: লালথুয়ামাওয়াইয়া রালতে, কমলপ্রীত সিং, মার্তি ক্রেসপি, আশির আখতার, অভিষেক আম্বেকর, লালরিনডিকা রালতে, কাশিম আইদারা, জুয়ান মেরা গঞ্জালেস, পিন্টু মাহাতো, হাইমে কোলাডো, এসপাদা মার্টিন।