কানপুর: ভারতে এনকাউন্টারের ঘটনা নতুন নয়। শুক্রবার সকালে বিকাশ দুবের মৃত্যুতে উঠতে শুরু করেছে একের পর এক প্রশ্ন। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও।

আর এমন গুনধর ছেলের কুকর্মের কথা জেনে গিয়েছে গোটা দেশ। উত্তরপ্রদেশের গ্যাংস্টার বিকাশ দুবের কার্যকলাপ এখন সংবাদ শিরোবামে। উত্তপ্ত রাজনীতির মঞ্চও।

শুক্রবারই উজ্জয়িনী থেকে কানপুর ফেরার পথে এনকাউন্টারে মৃত্যু হয় গ্যাংস্টার বিকাশ দুবের। ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিকাশ দুবের মা সরলা দেবী ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন৷ মিডিয়ার শত আহ্বানেও কোনও সাড়া দেননি তিনি৷ জানিয়ে দেওয়া হয় সরলা দেবীর শরীর খারাপ হওয়ায় তিনি ঘরে শুয়ে আছেন।

শুক্রবার বিকাশ দুবের মৃত্যুর খবর তার পরিবারকে জানানোর জন্য পুলিশের একটি টিমকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় লখনউ এর কৃষ্ণনগর এলাকায় অবস্থিত সরলা দেবীর ছোটো ছেলের বাড়িতে। যদিও পুলিশের সঙ্গে কানপুর যেতে অস্বীকার করেন তিনি ও তার ছোটো ছেলে-বৌমা। এদিন তিনি পুলিশকে জানিয়ে দেন যে তিনি লখনউতেই ঠিক আছেন৷ পুলিশকে তিনি আরও জানান, ছেলের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ ছিল না ৷ এর আগে পুলিশ যখন বিকাশ দুবেকে ধরেছিল তখন তিনি বলেছিলেন , পুলিশ যা ঠিক মনে করবে সেটাই করবে।

গ্যাংস্টার বিকাশের মৃত্যুর পর তার বাড়ির কোনও সদস্যই হাসপাতালে পৌঁছয়নি৷ বিকাশের বাবা কানপুরেই আছে৷ তাই পোস্টমর্টেমের পর তার হাতে দেহ তুলে দেওয়ার কথা। কৃষ্ণানগরে বিকাশের বাড়ির বাইরে পুলিশের বড় দল মোতায়েন করা আছে৷

হিস্ট্রি শিটার বিকাশ দুবে ২০০১ সালে দায়ের হওয়া রাজ্যমন্ত্রী সন্তোষ শুক্লার মৃত্যুর মূল অভিযুক্ত ছিল সে। ২০০০ সালে কানপুরের শিবলী থানার নারাচন্দ কলেজের সহায়ক প্রবন্ধক সিদ্ধেশ্বর পাণ্ডেয় হত্যায় সেই অভিযুক্ত ছিল৷ কানপুরের শিবালী থানায় ২০০০ সালে রামবাবু যাদবের হত্যার প্ল্যানিং বিকাশ জেলের ভিতরে থেকে করেছিল বলে জানা গিয়েছে৷

২০০৪ সালে কেবল ব্যবসায়ী দীনেশ দুবের হত্যার মামলাও তার বিরুদ্ধে ছিল৷ ২০০১ সালে কানপুর দেহাতের শিবলী থানার ভিতরে ঢুকে সে সময়ের রাজ্যমন্ত্রীদের গুলি করে ভরিয়ে দিয়েছিল৷ কিন্তু কোনও সাক্ষ্য না পাওয়া যাওয়ায় সেই মামলা থেকে মুক্তি পেয়ে যায় সে৷

তবে আট দিন ফেরার থাকার পর উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ৮ জনকে এনকাউন্টারে মারার মূল অভিযুক্ত বিকাশ দুবে শুক্রবার সকালে কানপুরের কাছেই মারা যায়৷ উত্তরপ্রদেশের এসটিএফ -র গাড়ি উল্টে যাওয়ার পর সে এক পুলিশের পিস্তল নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে৷সে সময় তাকে আত্মসমর্পণ করার কথা বলা হয়৷ কিন্তু গ্যাংস্টার দুবে সে সময় পুলিশের ওপর গুলি চালাতে শুরু করেছিল৷ পুলিশের পাল্টা ফায়ারিংয়ে সে মারা যায়।

এরপর বিকাশ দুবের দেহ হৈলট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় , সেখানেই তার পোস্টমর্টেম করা হয়৷ কিন্তু যখন শবদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলা হয় তখন বিকাশের পরিবার তাঁদের খুনী ছেলের মৃতদেহ নিতে অস্বীকার করে৷ পুলিশ বিকাশ দুবের বউকে ডেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেরা করেছিল। কানপুর এনকাউন্টারে তার কোনও যোগসাজশ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছিল ৷ তবে এই জেরায় তাঁকে নির্দোষ পাওয়ায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় ৷ এই জেরার সময় বিকাশের স্ত্রী-র সঙ্গে তাঁর নাবালক পুত্র সন্তানও ছিল বলে জানা গিয়েছে।

তবে এদিন কৃষ্ণনগর পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার জানিয়েছেন, ছেলেকে বহুবার বুঝিয়েও সৎ পথে আনতে পারেননি মা সরলা দেবী। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় বিকাশ দুবে। ছোটোবেলার থেকেই সে অপরাধ জগতের সঙ্গে যুক্ত। ফলে তার মতো দুশ্চরিত্র ছেলের সঙ্গে মায়ের আর কোনও সম্পর্ক নেই বলে জানিয়ে দেন সরলা দেবী। এদিন ছেলের কৃতকর্মের জন্য আক্ষেপও ফুটে উঠে তাঁর গলায়।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ