আলিগড় : গোটা দেশ তোলপাড়। এভাবে নৃশংসতার সাথে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় স্তম্ভিত দেশ। এরই মধ্যে চাঞ্চল্যকর দাবি উত্তরপ্রদেশ পুলিশের আলিগড় রেঞ্জের আইজি পীযূষ মোরদিয়ার। তিনি বলেন ১৯ বছরের দলিত ওই নির্যাতিতাকে নৃশংস ভাবে খুন করা হলেও, তাঁকে ধর্ষণ করা হয়নি। এই প্রসঙ্গে ওই নির্যাতিতার মেডিক্যাল রিপোর্ট তুলে ধরেছেন তিনি।

আইজি বুধবার বলেন হাথরসের ঘটনায় এটা প্রমাণিত হয় না যে কোনও ধর্ষণ হয়েছে। ২২শে সেপ্টেম্বর নির্যাতিতা পুলিশকে বয়ান দেয় এবং ধর্ষণের কথা উল্লেখ করে। পরে তাঁর শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায় তাঁর শরীরে ধর্ষণের কোনও চিহ্ন নেই। আইজির দাবি মেডিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্ট ধর্ষণের কোনও উল্লেখ করেনি। তবে নমুনা ফের পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে পুলিশ।

এদিন সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া তথ্য আলিগড় পুলিশের আইজি বলেন ২২শে সেপ্টেম্বর চার ব্যক্তির নাম বলে নির্যাতিতা। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার থেকেই শিরোনামে উত্তরপ্রদেশের হাথরস। একদিকে যখন ধর্ষকদের গ্রেফতার করার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা দেশ। রাজনীতির রঙ নির্বিশেষে সরব হয়েছেন প্রত্যেকে। তারই মধ্যে এক চমকে দেওয়ার মত ঘটনা। মধ্যরাতে মেয়ের দেহ ঘিরে তখন বসে আছে শোকস্তব্ধ পরিবার। আচমকা পুলিশ এসে নিয়ে গেল সেই মেয়ের মৃতদেহ। আত্মীয়রা গাড়ি আটকালেও কোনও লাভ হল না।

টানা ১৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েছেন নির্যাতিতা। মঙ্গলবার দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে মৃত্যু হয় দলিত পরিবারের ওই তরুণীর। পরে হাসপাতাল থেকে দেহ নিয়ে যাওয়া হয় বাড়িতে। পুলিশের সঙ্গে মেয়েটির পরিবারের বচসাচলে। রাত ১০টা ১০ মিনিটে হাসপাতাল থেকে দেহটি ছেড়ে দেওয়া হলে, তাঁদের কিছু না জানিয়েই পুলিশ দেহটি নিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ করেন মেয়েটির বাবা ও দাদা। হাসপাতালের বাইরে ধর্নায়ও বসেন তাঁরা। পরে সেখান থেকে তাঁদের সঙ্গে নিয়ে হাথরসের উদ্দেশে রওনা দেয় পুলিশ।

মেয়েটির দাদা অভিযোগে জানিয়েছেন, ‘‘জোর করে বোনের দেহ তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। শ্মশানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বাবাকেও। বোনের দেহ এক বার বাড়ির ভিতরে নিয়ে আসতে চাই বলে অনুরোধ জানানো হলেও তা শোনেনি পুলিশ।’’ পুলিশ যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের দাবি, পরিবারের সম্মতিতেই নির্যাতিতাকে দাহ করা হয়েছে।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।