প্রসেনজিৎ চৌধুরী: মুখ খুলতে চাইছেন না কেউই। কিন্তু ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন, শুক্রবার ইডেনে ঐতিহাসিক গোলাপি টেস্টের মাঝে সন্ধে নাগাদ শেখ হাসিনা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকেই উঠতে পারে তিস্তা জলবণ্টন চুক্তির বিষয়।

ভারত-বাংলাদেশের ইডেন টেস্ট সেক্ষেত্রে পরিণত হবে ক্রিকেট কূটনীতির কেন্দ্রে। প্রথমবার ইডেনে দিন-রাতের টেস্ট হচ্ছে। প্রথমবার বাংলাদেশ ক্রিকেটের নন্দন কাননে টেস্ট খেলছে। গোলাপি বলে খেলার সূচনা করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শেখ হাসিনার এই কলকাতা সফরে তাজ হোটেলে একান্ত বৈঠকে বসবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, এই বৈঠকে তিস্তা জল বন্টনের মতো বহু আলোচিত চুক্তির বিষয়টি উঠবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে তাজ হোটেলেই বিশেষ বৈঠকের কথা। যদিও আগে এই বৈঠকের বিষয়ে তৈরি হয়েছিল ধোঁয়াশা। পরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকের কথা জানান। তার পরেই ঢাকার কূটনৈতিক মহলে নতুন করে তিস্তা চুক্তি নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

তিস্তা নদীর জল সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবাহিত। এই আন্তর্জাতি নদীর জল বন্টনে তীব্র আপত্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর যুক্তি, গরমের সময় তিস্তার জল এমনিতেই থাকে না, তখন কোনমতেই বাংলাদেশকে জল দেওয়া সম্ভব না।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সর্বশেষ নয়াদিল্লি সফরেও তিস্তা চুক্তি সম্পাদনে না করার প্রশ্নে অনড় ছিলেন মমতা। তিনি জানান, তিস্তার বদলে পশ্চিমবঙ্গের অন্য কোনও নদীর জল নিক বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বিষয়টি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করেন। দিল্লিতে সেই কূটনৈতিক আলোচনার পরে কলকাতায় ইডেন টেস্টের মাঝে একান্ত বৈঠকে ফের হাসিনা-মমতা। বৈঠক ঘিরেই ফের তিস্তা চুক্তি আলোচিত হচ্ছে।

এর মাঝে ত্রিপুরা সরকারের অনুরোধে ফেনী নদীর জল দেওয়ার পথে হেঁটেছে বাংলাদেশ। ঢাকার তরফে জানানো হয়, এটি মানবিক পদক্ষেপ।

এই পদক্ষেপের পরেই ইডেন টেস্ট উপলক্ষে কলকাতায় ঝটিকা সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বাভাবিকভাবেই তিস্তা চুক্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে কূটনৈতিক কৌতূহল।

বৈঠক শেষে শুক্রবার রাতেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিশেষ ফ্লাইটে কলকাতা থেকে ঢাকা ফিরে যাবেন শেখ হাসিনা।