ঢাকা: বেতন ও পারিশ্রমিক বৃদ্ধি সহ ১১ দফা দাবিতে আচমকা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যরা ধর্মঘট করছেন। এর ফলে আসন্ন ইডেনে ভারত-বাংলাদেশ টেস্ট ম্যাচ ঘিরে প্রশ্ন উঠছে। তবে চিন্তিত নন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চাইছেন ক্রিকেটের নন্দনকাননে উপস্থিত থাকতে।

ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইডেনের ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচ নিয়ে আশঙ্কার কোনও কিছুই দেখছেন না বঙ্গবন্ধু কন্যা। সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে বলেই মনে করছেন তিনি।

নভেম্বরে ভারত সফরে যাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তিনটি টি-টোয়েন্টি ও দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। আগামী ৩ নভেম্বর দিল্লিতে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে টাইগারদের সফর। সূচি অনুসারে ২২-২৬ নভেম্বর কলকাতায় ইডেন গার্ডেনের টেস্ট দিয়ে শেষ হবে এই সফর।

ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় চাইছেন তাঁর রাজ্যে তথা ইডেন উদ্যানে সেই টেস্টের প্রথম দিনে মাঠে উপস্থিত থাকুন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবারই অবশ্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে শেখ হাসিনার উপস্থিতি নিয়ে সিএবি-তে সবুজ সংকেত পাঠানো হয়েছে৷

ভারত-বাংলাদেশ সুসম্পর্কের খতিয়ানে ইডেনে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট খেলতে নামা একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। বিশেষ করে ক্রিকেট দুনিয়ার অন্যতম সেরা মাঠ ইডেন। সেখানে এখনও পর্যন্ত কোনও টেস্ট খেলেনি বাংলাদেশ দল।

এদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানাচ্ছে, ২০০০ সালে প্রথম টেস্ট খেলে বাংলাদেশ। সেবার প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। স্বাধীনতা লাভের পর সেই ঐতিহাসিক সেই টেস্টে বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন নাইমুর রহমান দুর্জয়। আর সফরে যাওয়া ভারতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। দুই বাংলাভাষী ক্রিকেট অধিনায়কের মুখোমুখি ছিল আরও একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।

বিসিবি জানাচ্ছে, কলকাতায় ইডেন উদ্যানের টেস্টে থাকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দফতর থেকে সম্মতি চলে গিয়েছে। ২১ নভেম্বর রাতে বঙ্গবন্ধু কন্যা কলকাতায় যাবেন। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের ধর্মঘট ঘিরে ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি। সেই জট কাটিয়ে উঠতে মরিয়া বিসিবি। বোর্ড সম্পাদক নাজমুল হাসান পাপন আশ্বাস দিয়েছেন ইডেনে ম্যাচটি হবেই।

এদিকে ইডেনে ভারত-বাংলাদেশ টেস্ট ঘিরে জমে উঠেছে ক্রিকেট কূটনীতি। মনে করা হচ্ছে, শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক দিল্লি সফরের পর এবারের কলকাতা সফরে দুই দেশের মধ্যে আটকে থাকা তিস্তা জলবণ্টনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়েও আলোচনা হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনড় মনোভাবকে নরম করার উদ্যোগও নেওয়া হতে পারে।