জলপাইগুড়ি: হরিয়ানার থেকে অপহৃত হওয়া চার যুবককে উদ্ধার করলো জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জলপাইগুড়ি পুরসভার দু’নম্বর ওয়ার্ডের টোপামারি এলাকার একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় চার যুবক। অপরদিকে অপহরণের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে চার যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ করতে না চাইলেও তারা প্রত্যেকেই জলপাইগুড়ির বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। এই চক্রের সাথে কলকাতা এবং শিলিগুড়ির কিছু লোকের যোগাযোগ রয়েছে বলে পুলিশের অনুমান। অভিযুক্তরা হরিয়ানার ওই চার যুবকের বাড়িতে চল্লিশ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করেছিল বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্তদের শুক্রবার জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতের আবেদন করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে অপহৃত যুবকদের নাম যোগীন্দ্র দৈয়া, পরভিন, হরিন্দর এবং সন্দীপ রাঠি। এরা প্রত্যেকেই হরিয়ানার বাসিন্দা। যোগীন্দ্র জানায়, ছয় মাস আগে দিল্লীতে কোন এক বন্ধুর মারফত যোগাযোগ হয় কোলকাতার এক যুবকের সাথে। এরপর দিন যত পার হয় কলকাতার ওই যুবকের সাথে যোগীন্দ্রের বন্ধুত্ব সম্পর্ক তত দৃঢ় হয়। মাস খানেক আগে ওই যুবক যোগীন্দ্রকে প্রস্তাব দেয় ডুয়ার্সের জঙ্গলে বেড়াতে আসবার। কলকাতার ওই যুবক জানায় ডুয়ার্সে তার পরিচিতি রয়েছে সেখানে বেড়াতে আসলে তার কোন অসুবিধে হবে না। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে ডুয়ার্সে বেড়াতে নয়, কোন এক দুর্লভ দুষ্প্রাপ্য জিনিস বিক্রির টোপ দিয়ে ওই চার যুবককে আনা হয়েছিল। এরপর চলতি মাসের ১৭ তারিখ যোগীন্দ্র তার তিন বন্ধুকে নিয়ে শিলিগুড়ি আসেন। সেখানে আলাপ হয় অভিযুক্তদের তিন জনের সাথে। সেখানে একটি হোটেলে দু দিন থাকার পর ২০ তারিখ তাদের নিয়ে যাওয়া হয় লাটাগুড়িতে। সেখানে একরাত কাটিয়ে পরদিন তাদের নিয়ে যাওয়া হয় কোচবিহারের মাথাভাঙাতে। ইতিমধ্যে যোগীন্দ্ররা বুঝতে পারেন তাদের অপহরণ করেছে এই চক্রটি। কারণ তাদের কাছে টাকা চাওয়া হচ্ছে। এমনকি টাকা দিতে না পারলে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যোগীন্দ্রকে ৪০ লক্ষ টাকা আনতে বাড়ি পাঠায় অভিযুক্তরা। পাশাপাশি বলে দেওয়া হয় বিষয়টি পুলিশের কানে পৌঁছালে তার বাকি তিন বন্ধুকে মেরে ফেলা হবে। এরপর যোগীন্দ্র কিছু-টাকা নিয়ে জলপাইগুড়ি ফেরে। অপরদিকে বাকি তিনজনকে মাথাভাঙা থেকে জলপাইগুড়ি বজরাপাড়া সংলগ্ন টোপামারি এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু যোগীন্দ্রের আনা টাকাতে সন্তুষ্ট নন অপহরণকারীরা। সেখানে তাদের ওপর চলে শারীরিক অত্যাচার। ৪০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে ফোন করানো হয় ওই চার যুবকের পরিবারে। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট নম্বর দেওয়া হয় পরিবারকে। ইতিমধ্যে এই চার যুবককে অপহরণের খবর আসে জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশের কাছে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং ফোনের সূত্রধরে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ টোপামারির ওই বাড়ি থেকে চার যুবককে উদ্ধারের পাশাপাশি চার অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে।

জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ সুপার আকাশ মাঘারিয়া বলেন, এই চার যুবককে কোন দুষ্প্রাপ্য জিনিসের টোপ দিয়ে শিলিগুড়ি এবং ডুয়ার্সে নিয়ে আসা হয়। এই চক্রের সাথে কলকাতা এবং শিলিগুড়ির কিছু লোক যুক্ত আছে বলে মনে করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হবে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাসি শুরু করেছে পুলিশ বলে জানান, পুলিশ সুপার আকাশ মাঘারিয়া।