লন্ডন: প্রথম থেকেই সমস্যার কথা শোনা গিয়েছিল। এমনকি দুই বউ-এর মধ্যে বনিবনা হচ্ছে না, এমন কানাঘুষোও শোনা গিয়েছিল। এবার সরাসরি রাজ পরিবার ছাড়ার কথা ঘোষণা করে দিলেন ছোট রাজপুত্র হ্যারি ও রাজবধূ মেগান। ব্রিটিশ রাজ পরিবার তাই এখন শিরোনামে।

হ্যারির মা প্রিন্সেস ডায়ানার পথেই পা বাড়ালেন তাঁরা। হ্যারি ও মেগান ব্রিটিশ সিংহাসনের ষষ্ঠ উত্তরাধিকারী। ইন্সটাগ্রাম হ্যান্ডেলে দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন, ডিউক অব সাসেক্স প্রিন্স হ্যারি ও তার পত্নী ডাচেস মেগান মার্কেল। এরপরই ‘মাদাম তুসো’তে থাকা ব্রিটিশ রাজ পরিবারের সেট থেকে হ্যারি ও মেগানের মূর্তি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

রাজপরিবারের বাঁধাধরা নিয়মে খাপ খাওয়াতে না পেরে সাধারণদের মতো স্বাধীন চলাফেরা করতেই এমন ঘোষণা দিয়েছেন তারা। আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে চাইছেন বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। বুধবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, আগামী দিনগুলোতে তারা বছরের কিছুটা সময় ব্রিটেনে এবং বাকিটা উত্তর আমেরিকায় কাটানোর পরিকল্পনা করেছেন।

ডায়ানাও প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে বিচ্ছেদের আগে ১৯৯৩ সালে রাজকীয় দায়িত্ব কমিয়ে নিজের মতো জীবন কাটানোর সিদ্ধন্ত নিয়েছিলেন। বিবিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, হ্যারি ও মেগান এই সিদ্ধান্ত জানানোর আগে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ বা প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে কোনও আলোচনা করেননি। তাই আচমকা এমন সিদ্ধান্তে রীতিমত হতভম্ব বাকিংহাম প্যালেস।

স্বাভাবিকভাবেই ব্রিটিশ রাজ পরিবার এখন মুখরোচক বিষয়। মার্কিন পত্রিকা নিউইয়র্ক পোস্ট এই ঘটনাকে ‘মেক্সিট’ (মেগান+এক্সিট) অ্যাখ্যা দিয়েছে। ইতালির রিপাবলিকা বলছে, রাজপরিবার থেকে ডিভোর্স চাইছেন মেগান-হ্যারি।

হ্যারি (৩৮) ও মেগান (৩৫) গত অক্টোবরে বলেছিলেন, রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে সারাক্ষণ গণমাধ্যমের নজরে থাকতে হয় বলে ব্যক্তিগত জীবন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তার তিন মাসের মাথায় এমন ঘোষণা করলেন তাঁরা। বিবৃতিতে হ্যারি ও মেগান বলেছেন, ‘রানী, কমনওয়েলথ ও অভিভাবকদের প্রতি দায়িত্বের বিষয়ে পূর্ণ সম্মান রেখেই তাঁরা ব্রিটেন ও উত্তর আমেরিকায় ভাগাভাগি করে থাকতে চান।

সন্তান আর্চির বেড়ে ওঠার পাশাপাশি নতুন একটি এনজিও খোলার পরিকল্পনার কথাও তাঁরা বলেছেন। হ্যারি-মেগানের ওই ঘোষণা বাকিংহাম প্রসাদকে বেশ বড় ধাক্কাই দিয়েছে। রাজপরিবার তাদের সিদ্ধান্তের কারণে যতটা না আহত হয়েছে, তার চেয়ে বেশি আহত হয়েছে তারা যেভাবে আলোচনা না করে ওই ঘোষণা দিয়েছেন- তা নিয়ে।

একসময় আমেরিকতেই অভিনেত্রী হিসেবে কাজ করেছেন মেগান। কাজের সূত্রে এক সময় টরন্টোতে কাটিয়েছেন। সেখানে তার বেশ কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবও আছে। আর রাজপরিবারের জীবনে অনেক কিছুর সঙ্গেই তারা মানিয়ে নিতে পারছেন না।

তিনি বলেছেন, তিনি বোবা পুতুলটি হয়ে থাকতে চান না। কিন্তু যখনই উচ্চকণ্ঠ করেছেন, তাকে সমালোচনায় পড়তে হয়েছে। এছাড়া প্রিন্সেস কেট মিডলটনের সঙ্গে তাঁর ঝগড়ার খবরও সামনে এসেছে। এর আগে ১৯৩৬ সালে রাজা অষ্টম অ্যাডওয়ার্ড তো মার্কিন নারী ওয়ালিস সিম্পসনকে বিয়ে করার জন্য সিংহাসনই ত্যাগ করেছিলেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.