নয়াদিল্লি: ৩৫ বছর আগে কপিল দেবের ব্যাটিংয়েরস্মৃতি উসকে দিলেন হরমনপ্রীত৷ প্রথম ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে টি-২০ ফর্ম্যাটে সেঞ্চুরি করে নজির গড়লেন বছর বছর তিরিশের পঞ্জাব তনয়া৷ তাঁর বিংধ্বসী ব্যাটিংয়ে মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপের প্রথম নিউজিল্যান্ডকে ৩৪ রানে হারাল ভারত৷

১৯৮৩ বিশ্বকাপ৷ লর্ডসে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ১৭ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে ভারতীয় ইনিংসকে খাদের কিনারা থেকে তুলে এনে ভারতকে জয় উপহার দিয়েছিলেন কপিল দেব৷ সুনীল গাভাস্কর, কৃষ্ণমাচারী শ্রীকান্ত, মহিন্দর অমরনাথ ও সন্দীপ শর্মা তখন ড্রেসিংরুমে ফিরে গিয়েছেন৷ সে তার পর ব্যাট করতে নেম ক্রিকেট মক্কায় ইতিহাস রচনা করেছিলেন কপিল৷ ছয় ছক্কা ও হাফ-ডজন বাউন্ডারির সাহায্যে ১৭৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ‘হরিয়ানা হ্যারিকেন’৷ কপিলের পর ভারতীয় ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর ছিল সৈয়দ কিরমানির ২৪ রান৷ ৮ উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ৬০ ওভারে ভারত তুলেছিল ছ’ উইকেটে ২৬৬ রান৷

এই ম্যাচটা কপিলদের কাছে আশীর্বাদ হিসেবে দেখা দিয়েছিল৷ জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে জয়ের পাশাপাশি টুর্নামেন্টে আর পিছনে তাকাতে হয়নি ভারতকে৷ টুর্নামেন্টে আন্ডারডগ হিসেবে শুরু করে কপিল অ্যান্ড কোং শেষ করেছিল টপডগ হিসেবে৷ প্রথমবার বিশ্বজয়ের স্বাদ পেয়েছিল ভারত৷ ফাইনালে ১৮৩ রান মুলধন করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল কপিল দেবের ভারত৷ যা ১০০ কোটির দেশের মানুষের কাছে ক্রিকেটকে ধর্ম করে তুলেছিল৷ সেই ধারা ধরে রাখেন মহেন্দ্র সিং ধোনি৷

রাঁচির এই যুবকের হাত ধরে দু-দু’টি বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত৷ ২০০৭ টি-২০ বিশ্বকাপ এবং ২০১১ ওয়ান ডে বিশ্বকাপ জিতে কপিলের সরণিতে হাঁটেন ধোনি৷ সচিন, সৌরভ ও রাহুল ভারতীয় ক্রিকেটের এই তিন মহারথীকে ছাড়ায় প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ধোনির ভারত৷ সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ধোনি৷

আর হরমনপ্রীত ভারতের মহিলা ক্রিকেটকে পৌঁছে দিলেন স্বপ্নের সরণিতে৷ গত বছর ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে ভারতকে ফাইনালে তোলার পিছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল এই পঞ্জাব তনয়ার৷ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর ১৭১ রানের ইনিংস ১৯৮৩ বিশ্বকাপে কপিলের ইনিংসকে মনে করিয়ে দিয়েছিল৷ আর শুক্রবার টি-২০ বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৫১ বলে আটটি ছক্কা ও সাতটি বাউন্ডারির সাহায্যে ১০৩ রানের ইনিংস খেলে ভারতকে জয় উপহার দেন ভারতীয় ক্রিকেটের ‘সুপারউইমেন’৷