নয়াদিল্লি: একটা ইনিংসেই আসমুদ্র হিমাচল উত্তাল করে দিয়েছেন হরমনপ্রীত কউর৷ তাঁর মহাজাগতিক ইনিংস ক্রিকেট প্রেমীদের মনে করিয়ে দিচ্ছে ৩৪ বছর আগের ‘হরিয়ানা হ্যারিকেন’ কপিল দেবের অবিস্মরণীয় ১৭৫ রানের ইনিংসকে৷ কপিলও যে রকম চাপের মুখে সে দিন অপরাজিত ১৭৫ করে ভারতকে একাই জিতিয়েছিল, এ দিন হরমনও সেটাই করে দেখালেন৷ কপিলের বিরুদ্ধে সে দিন ছিল জিম্বাবোয়ে৷ আর বৃহস্পতিবার হরমনের প্রতিপক্ষ ছিল অস্ট্রেলিয়া৷ যারা গত বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল৷

হরমনপ্রীতের রেকর্ড সেঞ্চুরিতে বড় রান ভারতের

আর যার সঙ্গে এই তুলনা করা হচ্ছে সেই কপিলও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন হরমনপ্রীতের৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন,‘তোমাদের জন্য গর্ব হচ্ছে৷ বিশেষ করে হরমনপ্রীতের জন্য৷ দুর্দান্ত ইনিংস৷’ তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ,‘মাস্টার ব্লাষ্টার’ সচিন তেন্ডুলকর, টিম ইন্ডিয়ার ক্যাপ্টেন বিরাট কোহলি, কোচ রবি শাস্ত্রী, অনিল কুম্বলে ,চেতেশ্বর পুজারা ও বীরেন্দ্র সেহওয়াগ৷ এর আগে প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে ওয়ান ডে-তে ‘ক্যারি দ্য ব্যাট’ হিসেবে নজির গড়েন পূর্ণিমা রাও৷কিন্তু মহিলাদের হরমনপ্রীতই প্রথম যিনি ওপেন করতে নেমে সেঞ্চুরি করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকলেন৷ ১১৫ বলে ২০টি বাউন্ডারি ও সাত ছক্কায় ১৭১ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন হরমনপ্রীত৷ এদিন ম্যাচের পর উৎসবে মাতেন তাঁর এলাকার লোকেরা৷ তাঁর বাবা হরমন্দর ভূল্লার বলেন,‘ছোটবেলা থেকে ও ছেলেদের সঙ্গে খেলতো৷ কারণ আমাদের এলাকায় ক্রিকেট নিয়ে মেয়েদের খুব একটা উৎসাহ ছিলনা৷ তাই ছোট থেকেই ও খুব ‘টাফ’৷ আমার মনে হয় ও অনেক ছেলের থেকেই ভালো খেলে’৷

আগেই মহিলা বিশ্বকাপ ক্রিকেট ফাইনালে উঠেছে আয়োজক ইংল্যান্ড৷ প্রথম সেমিফাইনালে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারায় তারা৷ আর ছ’বারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে রবিবার ফাইনালে তাদের মুখোমুখি ভারত৷ গ্রুপ লিগের ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৩৫ রানে হারিয়েছিল৷ ফাইনালেও সেই ম্যাচের পুনরাবৃত্তি চাইছে দেশবাসী৷ ১১ বারের টুর্নামেন্টে একবারই মাত্র ফাইনালে উঠেছে ‘এশিয়ার ব্লু’৷ ২০০৫-এ সেঞ্চুরিয়ানে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারে তারা৷ তবে এবারে তারা যা খেলছেন তাতে প্রথমবার কাপ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী দেশবাসীও৷