কলকাতা: শ্রাবণ মাসের অমাবস্যা। সাধারণ ভাবে প্রচলিত শ্রাবণ বা শ্রাবণী অমাবস্যা নামে। তবে হরিয়ালি অমাবস্যা হিসেবে দেশের নানা প্রান্তে পালন করা হয় একে। হরিয়ালি তিজের আগে এই অমাবস্যার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষ নিয়মও রয়েছে হরিয়ালি অমাবস্যা পালনের। ২০২০ সালের ২০শে জুলাই হরিয়ালি অমাবস্যা পালন করা হবে।

২০শে জুলাই রাত ১২.২০তে অমাবস্যার সময় শুরু হচ্ছে। চলবে পরের দিন রাত্রি ১১.০২ মিনিট পর্যন্ত।

হরিয়ালি বা শ্রাবণ অমাবস্যার মাহাত্ম্য- এই অমাবস্যা পূর্ব পুরুষদের স্মরণ করার জন্য বিশেষ শুভ দিন। এই জন্য এই দিনে সাধারণত তর্পণ করেন সাধারণ মানুষ। এছাড়াও শ্রাদ্ধের কাজের জন্য এই দিনটিকে বিশেষ শুভ বলে মানা হয়। এই দিনে তর্পণ করলে বা পিতৃপুরুষের শ্রাদ্ধের অনুষ্ঠান করলে পিতৃদোষ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

এই দিনটি কাল সর্প দোষ কাটানোর জন্যও শুভদিন হিসেবে গণ্য করা হয়। যাঁরা এই দোষে দুষ্ট, তাঁরা স্বপ্নে সাপ বা মৃত মানুষদের দেখেন বলে কথিত। এই দোষ মানুষকে ভীত ও হতাশ করে তোলে। এই কাল সর্প দোষ কাটাতে পুজো করার শুভ দিন ও তিথি হল হরিয়ালি অমাবস্যা।

মহাদেবের ভক্তদের জন্য শ্রাবণ মাস বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত শ্রাবণী অমাবস্যার আলাদা মাহাত্ম্য রয়েছে। শিবভক্তেরা এই দিনটিকে বিশেষ ভাবে পালন করেন। কিছু পুজো রয়েছে এই দিনে, যা পালন করেন তাঁরা।

ফাইল ছবি

গুজরাটের দ্বারকার শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরে ও বৃন্দাবনের মন্দিরে বিশেষ পুজো করা হয় এই অমাবস্যায়। এদিন শুধু তর্পণ বা পিতৃদোষ কাটানোই নয়, প্রকৃতির পুজোও করা হয়। অশত্থ, কলা গাছ বা তুলসি গাছের পুজো এই হরিয়ালি অমাবস্যায় করলে বিশেষ ফল মেলে।

বর্ষাকাল যেহেতু শষ্য সবুজে ভরে ওঠার কাল, তাই প্রকৃতি মাকে সন্তুষ্ট রাখার জন্য এই পুজো করা হয়। আর পুজো করার বিশেষ তিথি এই হরিয়ালি অমাবস্যা।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।