সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : ফের সামনে রেলের অচল অবস্থা। মোগলসরাইয়ে এসি সংরক্ষিত কামরায় উঠে রীতিমত জোড় জুলুম চালাল একদল যাত্রী। মহিলাদের মারধোরসহ জোড় করে উঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল। রাস্তা আটকে বাথরুমে যেতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠছে।

২৪ ঘণ্টাও কাটেনি সাঁতরাগাছি স্টেশনে ফুটব্রিজ বিপর্যয়য়ের । এক সপ্তাহও কাটেনি অমৃতসরে রেল দুর্ঘটনার। এর মধ্যেই আরও একবার বিপাকে রেল। ১২৩৭০ ডাউন হরিদ্বার – হাওড়া সুপার ফাস্ট এক্সপ্রেসের যাত্রীদের হয়রানির শীকার হতে হল। ট্রেনের যাত্রীদের অভিযোগ মোগলসরাইয়ে জংশন স্টেশনে ট্রেন থামে। সেখানে হঠাৎ করে সংরক্ষিত বাতানুকূল কামরাগুলিতে লোক উঠতে শুরু করে। অভিযোগ, এদের কারোর আসনই ছিল না ওই ট্রেনে।

ট্রেনের যাত্রী সুমন্ত পাল বলেন, “আমরা হরিদ্বার থেকেই উঠেছি। পুজোর ছুটি কাটিয়ে বাড়ি ফিরছি পরিবার নিয়ে। বুধবার বিকালে ট্রেন মোগলসরাই পৌঁছায়। B1,B2,B3 কামরার ৯০ শতাংশই বাঙালি। হঠাৎ করে আমাদের বহু যাত্রী উঠে পরে। পুরো কামরা ভরতি অথচ এত লোক দেখে আমরা হকচকিয়ে গিয়েছিলাম। ওদের জিজ্ঞাসা করতেই অসভ্য ব্যবহার করতে শুরু করে।” এরপরেই কামড়ার সংরক্ষিত আসনের যাত্রীদের সঙ্গে বচসা শুরু হয় আসন জবরদখল করতে আসা যাত্রীদের। মৌমিতা সরকার বলেন, “এমনভাবে দুটো বার্থের মাঝে দাঁড়িয়ে যায় সব যে আমরা ঠিক করে বসতে পারছিলাম না কেউ। অন্য এক মহিলা প্রতিবাদ করায় তাঁর উপর চড়াও হয়ে মারধোর করে। আমরা রেলের মহিলা হেল্পলাইনে ফোন করে অভিযোগ জানিয়েছি। কিন্তু এখনও কোনও কাজ হয়নি।”

Kolkata24x7 ওই হেল্প লাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বলা হয় আমরা লোক পাঠিয়েছি কিন্তু যিনি অভিযোগ করেছিলেন তিনি ফোন ধরছেন না। তাঁরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলে জানিয়েছেন।

এর আগে দুরপাল্লার বহু ট্রেনে খারাপ খাবার সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে রেলের বিরুদ্ধে। বহু লোকাল ট্রেনে জায়গা আগে থেকে জবরদখল ক্রে তাস খেলার চিত্র অচেনা নয়। অচেনা নয় বিহার থেকে সংরক্ষিত কামরায় উঠে আসন নেওয়ার চেষ্টা। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিষয়টি অনুরোধের পর্যায় থাকে। অথবা ফাঁকা হয়ে আসা সংরক্ষিত ট্রেনের কামরায় মানুষ উঠে বসেন। কিন্তু এমন জোড়জুলুম বচসার চিত্র বিশেষ দেখা যায় না।

ঘটনা যে রেলের অব্যবস্থার চিত্র আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল তা বলা যেতেই পারে। প্রশ্ন উঠছে, রেলের পরিষেবা , যাত্রী সুরক্ষা নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠছে সেখানে চলছে বুলেট ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা।