কেপটাউন: ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই থেমে গেল প্রাক্তন প্রোটিয়া অধিনায়ক হ্যান্সি ক্রোনিয়ের বাবা ইভি ক্রোনিয়ে৷ নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে এই খবর জানিয়েছেন হ্যান্সি ক্রোনিয়ের দাদা ফ্র্যান্স ক্রোনিয়ে৷

জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়কের বাবা ছাড়াও ইভি ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকা মহিলা ক্রিকেটের পথিকৃৎ৷ ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর সোমবার বিকেলে মারা যান তিনি৷ মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর৷

তাঁর ছেলে ফ্যান্স মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। ইনস্টাগ্রামে হ্যান্সির দাদা লিখেছেন, ‘আমার বাবা সোমবার বিকেলে লর্ডের সঙ্গে দেখা করতে চলে গিয়েছেন। তিনি শান্তিতে ছিলেন৷ বাবা হিসেবে তিনি ছিলেন দুর্দান্ত৷ তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’

তিনি আরও লেখেন, ‘আমার মা, আমার বোন এবং আমার কাছ থেকে, গত কয়েক মাসের সমস্ত দুর্দান্ত বার্তাগুলির জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আমরা আজ ফোন কলগুলির উত্তর দিতে সক্ষম হব না৷ তবে প্রতিটি হোয়াটসঅ্যাপ এবং অন্যান্য বার্তা পড়ব অনেক ভালোবাসার সঙ্গে৷’

ইভির ছোট ছেলে হ্যান্সি ক্রোনিয়ে ১৯৯৪ সাল থেকে ২০০০ পর্যন্ত প্রোটিয়াদের নেতৃত্ব দিয়েছেন৷ বিশ্বের প্রথম সারির দলগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন হ্যান্সি৷ দেশের হয়ে ৬৮টি টেস্ট এবং ১৮৮টি ওয়ান ডে ম্যাচ খেলেছেন প্রয়াত প্রোটিয়া অধিনায়ক৷ ২০০০ সালে ভারত সফরে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের ফলে তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ার এবং জীবনে অন্ধকার নেমে আসে৷ ম্যাচ গড়াপেটা কাণ্ডে ক্রিকেট থেকে আজীবন নির্বাসিত হওয়ার পর ২০০২ সালে মাত্র ৩২ বছর হয়ে এক বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় হ্যান্সির৷

ইভি ক্রোনিয়ে ছিলেন ফ্রি স্টেট ক্রিকেট ইউনিয়নের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট৷ ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি এই পদে ছিলেন৷ ফ্রি স্টেট ক্রিকেট ইউনিয়নের হয়ে ক্রিকেটও খেলেছিলেন তিনি৷ ১৯৬০ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ২৭টি প্রথমশ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন৷ ফ্রি স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিকেট প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন হ্যান্সির বাবা৷

ইভির মৃত্যুতে ফ্রি স্টেট ক্রিকেট ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট জোলা থামা এক শোকবার্তায় জানিয়েছেন, ‘তিনি ক্রিকেটে আজীবন সেবা দিয়েছেন। তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ ব্যক্তি৷ যিনি তাদের পটভূমি নির্বিশেষে ক্রিকেটে জড়িত প্রত্যেককে ন্যায্য সুযোগ দিতে চেয়েছিলেন৷’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি যে, তিনি ১৯৯৫ সালে আমরা দু’জন ফ্রি স্টেট প্রাদেশিক ক্রীড়া পরিষদে দায়িত্ব পালন করছিলাম, তখন ফিরে এসে মেয়েদের ক্রিকেট শুরু করার জন্য তিনি বিশেষত আমার কাছে তদবির করেছিলেন।’ ক্রিকেটে সেবা করার জন্য ২০১২ সালে খায়া মাজোলা লাইফটাইম অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছিলেন ইভি ক্রোনিয়ে৷

সাউথ আফ্রিকা ক্রিকেট চিফ একজিকিউটিভ জ্যাক ফাউল জানিয়েছেন, ‘তিনি তার প্রিয় আলমা ম্যাটার, গ্রে কলেজের শিক্ষক হতে পদত্যাগ করার পরে ফ্রি স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসক হিসাবে কাজ করেছিলেন৷ দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকাশের সঙ্গে তার অনেক কিছুই করার ছিল৷’

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।