স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: গত বুধবার পেটের ব্যাথা নিয়ে ভরতি হয়েছিলেন বিষ্ণুপুর শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বাপ্পা বাউরি৷ কিন্তু শনিবার থেকে আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান তিনি৷ সেই নিখোঁজ রোগির খোঁজ মিলল হাসপাতালের চারতলায়৷ তাও ঝুলন্ত অবস্থায়৷

‘নিখোঁজ’ রোগির ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ালো বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে। পরিবার সূত্রে খবর ৩৭ বছর বয়েসী বাপ্পা বাউরি শুক্রবার কিছুটা সুস্থ বোধ করছিলেন৷ সেদিনই বাড়ি ফিরে যান তাঁর স্ত্রী৷ কিন্তু শনিবার এসে আর স্বামীকে দেখতে পাননি৷

বিষ্ণুপুর শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাদাকুলি বাউরী পাড়ার ওই বাসিন্দার খোঁজ শুরু হয় তখন থেকেই৷ বিষয়টি জানানো হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে৷ কিন্তু তাঁরা কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ। রবিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে রোগী নিখোঁজের বিষয়টি থানায় জানানো হয়।

মৃত বাপ্পা বাউরীর স্ত্রী মায়া বাউরী বলেন, শুক্রবার পর্যন্ত হাসপাতালেই ছিলাম। শনিবার বাড়ি থেকে ফিরে আর হাসপাতালের বেডে স্বামীকে দেখতে পাইনি। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা কোনও গুরুত্ব দেননি বলে তাঁর অভিযোগ।

গত দু’দিন নিখোঁজ থাকার পর সোমবার রাতে হাসপাতালের চার তলায় অব্যবহৃত অপারেশান থিয়েটারে ‘চিকিৎসাধীন’ বাপ্পা বাউরীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে বিষয়টি বিষ্ণুপুর থানায় জানালে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত হবে বলে জানানো হয়েছে৷ পুলিশের পক্ষ থেকে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন : ভাটপাড়ায় শান্তি মিছিল আজ একযোগে সোমেন-সূর্যকান্ত

হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সভাপতি দিব্যেন্দু ব্যানার্জ্জী এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবী জানান। তিনি বলেন, হাসপাতালের মধ্যে এই ধরণের ঘটনা কেন ঘটলো খতিয়ে দেখা উচিৎ। এর পিছনে কেউ বা কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা উচিত বলেও জানান তিনি৷ এরই সঙ্গে তাঁর প্রশ্ন কী করে একজন রোগি নিরাপত্তা কর্মী ও কর্তব্যরত নার্সদের চোখ এড়িয়ে হাসপাতালের চারতলায় চলে যেতে পারে?

বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের সুপার ডাঃ সুব্রত রায়, হাসপাতালের মধ্যে রোগীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধারের কথা স্বীকার করে বলেন, রোগি নিখোঁজের খবর পাওয়ার সাথে সাথেই বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা সহ হাসপাতালের পক্ষ থেকেও বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলে তিনি জানান।