স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: কোলে পিঠে করে যে সন্তানকে মানুষ করলেন বৃদ্ধ বয়সে সেই সন্তানের কাছ থেকে জুটল জুতোর পেটা। বৃদ্ধ বয়সে সম্পত্তি হাতিয়ে অসহায় অন্ধ মাকে জুতাপেটা করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠলো ছেলের বিরুদ্ধে। সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়ে ৮৬ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধাকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় মানুষদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে পুরাতন মালদহ থানার মঙ্গলবাড়ী এলাকার দেবীপুর কলোনিতে। গত ২২ নভেম্বর পুরো বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত ছেলে বাসুদেব দাসের বিরুদ্ধে পুরাতন মালদহ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন অসহায় এবং অন্ধ বৃদ্ধা শংকরী দাস (৮৬)। কিন্তু পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ কোনও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছেন ওই বৃদ্ধা। তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে মালদহের একটি মানবাধিকার সংগঠনের সদস্যরা।

পুলিশকে অভিযোগ করে বৃদ্ধা শংকরী দাস জানিয়েছেন, তিনি চোখে দেখতে পান না। স্বামী নিমাই দাস দীর্ঘদিন আগেই মারা গিয়েছেন। শংকরী দেবীর নামে সোয়া তিন কাঠা জায়গার ওপর দেবীপুর কলোনীতে একটি বাড়ি ছিল। যার বর্তমান বাজার মূল্য কয়েক লক্ষ টাকা। কিন্তু কৌশলে’ অন্ধ ওই বৃদ্ধাকে দলিল তৈরি করে সই করিয়ে নেয় তার ছেলে বাসুদেব দাস। সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার পর থেকে শুরু হয় বৃদ্ধা মায়ের উপর নির্মম অত্যাচার। কখনো জুতোপেটা, কখনো চড়, কিল চলছিল ওই অসহায় বৃদ্ধার ওপর। এমনকি তাকে খেতেও পর্যন্ত দেওয়া হতো না। গত ২১ নভেম্বর শীতের রাতে ওই বৃদ্ধাকে মারধর দিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় ছেলে বাসুদেব দাস বলে অভিযোগ । এরপরই ওই বৃদ্ধা প্রতিবেশী কয়েকজনের সাহায্য নেয়। তাদের বারান্দায় রাত কাটিয়েই সকালে পুরাতন মালদহ থানার পুলিশের কাছে ছেলের অত্যাচারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানান।

বৃদ্ধা শংকরী দাসের বক্তব্য , ‘আমি অন্ধ তাই ছেলে আমার অসহায়তার সুযোগ নিয়ে সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়েছে। আমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশে নালিশ জানিয়েছি বলে খুনের হুমকি পর্যন্ত দিচ্ছে। এই অবস্থায় পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করব। এলাকার কিছু মানুষ আমাকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে এসেছেন। পুলিশ যদি অভিযুক্ত ছেলেকে গ্রেফতার না করলে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হবো।’

গণতান্ত্রিক আইন অধিকার রক্ষা সমিতির মালদহ জেলার সম্পাদক জিষ্ণু রায়চৌধুরী বলেন, ৮৬ বছর বয়সী একজন অন্ধ বৃদ্ধাকে তার ছেলের এই নির্মম অত্যাচারের কথা আমরা শুনেছি। এই ধরনের ঘটনা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। অভিযুক্তকে পুলিশ যাতে অবিলম্বে গ্রেফতার করে। এবং অসহায় ওই বৃদ্ধাকে তার নিজের সম্পত্তির অধিকার ফিরিয়ে দেয় সেকথাও আমরা সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশকে জানিয়েছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে ওই বৃদ্ধাকে নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবো।
যদিও এই ঘটনার ব্যাপারে অভিযুক্ত বাসুদেব দাসের সঙ্গে কোনও রকম ভাবে যোগাযোগ করা যায় নি।

পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, শংকরী দাস নামে এক বৃদ্ধাকে তার এক ছেলে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। যদি এই ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট ভাবে আমার কাছে কোনও অভিযোগ আসেনি। শুনেছি পুরাতন মালদহ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তকে অবশ্যই গ্রেফতার করবে। ওই বৃদ্ধাকে তার বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব