নয়াদিল্লি: লাদেনের ছেলেকে খতম করেছে আমেরিকা। শনিবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একথা নিশ্চিত করেছেন। আমেরিকার চালানো অভিযানেই যে তাকে মারা সম্ভব হয়েছে, সেকথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাক সেনার ছত্রছায়াতেই ছিল এই হামজা বিন লাদেন।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ এসপি সিনহা বলেন, ‘হামজার মৃত্যুই বলে দিচ্ছে যে আমেরিকা তালিবান তথা সন্ত্রাসবাদকে মোটেই হেলাফেলা করছে না।’ তাঁর দাবি, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সুরক্ষাতেই হামজা ছিল, এমন সম্ভাবনা রয়েছে। আর পাকিস্তান যেভাবে আমেরিকাকে বারবার নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করছে, হামজার মৃত্যু যে সেই চেষ্টায় একটা বড় ধাক্কা, সেটাই উল্লেখ করেছেন এসপি সিনহা।

তাঁর কথায়, পাকিস্তান আসলে আমেরিকাকে নিজেদের জালে জড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করছে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, আমেরিকার উচিৎ মাসুদ আজহার, সৈয়দ সালাউদ্দিন কিংবা হাইফিজ সইদের মত জঙ্গি নেতাদেরও টার্গেট করা।

গত মাসে আমেরিকার সংবাদ মাধ্যমে তার নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। দু’বছর আগে আমেরিকা তাকে বিশ্ব সন্ত্রাসী হিসাবে চিহ্ণিত করে। তার মাথার দামও ঘোষণা করা হয়েছিল। হামজার বয়স প্রায় ৩০বছরের আশেপাশে। তিনি আমেরিকা এবং অন্যান্য দেশের ওপর আক্রমণ চালানোর ডাক দিয়েছিলেন।

শনিবার হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ”হামজা বিন লাদেন, আল কায়দার শীর্ষ পর্যায়ের সদস্য এবং ওসামা বিন লাদেনের পুত্র, আফগানিস্তান/পাকিস্তান এলাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চালানোর সন্ত্রাস বিরোধী এক অভিযানে নিহত হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, ”হামজা বিন লাদেনের মৃত্যু আল কায়দার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বপদে শূন্যতা তৈরি করবে এবং তার বাবার সঙ্গে হামজার প্রতীকী যোগাযোগের জায়গাটাও তার মৃত্যুতে ধাক্কা খাবে। শুধু তাই নয়, দলের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমও এর ফলে বাধা পাবে।”

এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব মার্ক এসপার নিশ্চিত করেন সেই খবর। এক মার্কিন সংবাদমধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাত্‍কারে হামজার মৃত্যুর কথা স্বীকার করে নেন তিনি। কিন্তু আমেরিকাই তাকে মেরেছে কিনা, সে ব্যাপারে স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি তখনও।

ওসামা বিন লাদেনের ২৩টি সন্তানের মধ্যে ১৫তম সন্তান ছিল হামজা। লাদেনের তৃতীয় স্ত্রী’র ছেলে ছিল সে। পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদের গোপন ডেরায় লাদেনকে খতম করার পর বেশ কিছু তথ্য, ভিডিও ফুটেজ ও বহু ছবি বাজেয়াপ্ত করেছিল মার্কিন সেনা। সেগুলি খতিয়ে দেখে মার্কিন তদন্তকারীদের মত ছিল, লাদেনের অত্যন্ত প্রিয় সন্তান ছিল হামজা। তাকে জেহাদের যুবরাজও বলা হত।