হলদিয়া: দেশীয় প্রজাতির প্রায় বিলুপ্ত জাতের মাছ চাষে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছেন পূর্বে মেদিনীপুর জেলার হলদিয়া ব্লকের মৎস্য চাষিরা। বিলুপ্ত জাতের মাছ বাণ্যিজ্যিকভাবে চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন এই জেলার চাষিরা।

হলদিয়া ব্লক মৎস্য দফতরে উদ্যোগে মাছ চাষিদের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে বিভিন্ন বিলুপ্ত প্রজাতীর মাছ চাষ শুরু করা হয়েছিল। এখন মাছ চাষিরা বাণিজ্যিকভাবে বড় পরিসরে মাছ চাষ শুরু করেছেন। হলদিয়া ব্লক মৎস্য দফতরের তরফে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে এই সব মাছের চাষ শুরু হয়। এমনকি সরকারি সহায়তা ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে শুরু হয় দেশীয় টেংরা, পাবদা, শিঙি, মাগুর, কই, সরপুঁটি, শোল, চিতল সহ বিভিন্ন জাতের প্রায় বিলুপ্ত মাছ চাষ৷

হলদিয়া ব্লকের বসানচক গ্রামের শুভ্রজ্যোতি সাহু, শরৎচন্দ্র ভৌমিক, দ্বারিবেড়িয়া গ্রামের পঞ্চানন মন্ত্রী, নারায়ন বর্মন, বাড়বাসুদেবপুর গ্রামের সুদীপ বিকাশ খাটুয়া, বড়বাড়ি গ্রামের কৃষ্ণ মাইতি, কাষ্ঠখালি গ্রামের রাজকৃষ্ণ ভুঁইয়া, চকলাল পুরের বিষ্ণুপদ জানা, ডি-ঘাসিপুর গ্রামের কৃষ্ণ প্রসাদ সামন্ত প্রভৃতি প্রগতিশীল মাছ চাষিরা মৎস্য দফতরের উৎসাহে প্রায় হারিয়ে যাওয়া মাছের বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেন এবং সাফল্য পান।

এনাদের সাফল্য দেখে এলাকার অনেকেই শুরু করেন বিলুপ্ত জাতের মৎস্য চাষ। হলদিয়া ব্লকে বর্তমানে মোট প্রায় ১০০ একর জলাশয়ে দেশীয় টেংরা, পাবদা, শিঙি, মাগুর, কই, পেংবা, সরপুঁটি, শোল, চিতল সহ বিভিন্ন জাতের মাছ চাষ হচ্ছে। আর এর পরিমাণ এখন বাড়ছে। এমনকি জেলার ও জেলার বাইরের অন্যন্য এলাকার মাছ চাষিরাও হলদিয়ায় এসে হাতেকলমে এই সব মাছের চাষ করা শিখেছেন। উৎসাহীত হয়ে তারাও বিলুপ্ত মাছের চাষ শুরু করেছেন।

রামনগর ব্লকের মাছ চাষি অপূর্ব জানা, রামতারকের মাছ চাষি অরুন বাগ, নন্দকুমারের কৃষ্ণ মান্না, তারাপদ বাগ আরো অনেক মাছ চাষিরা এসে ঘুরে দেখে যাচ্ছেন হলদিয়া ব্লকের এই সব মাছ চাষের ক্ষেত্র গুলো। হলদিয়ার বিলুপ্ত জাতের মাছ চাষের সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে চাষে নামছেন অন্যন্য জেলার মাছ চাষিরাও। হলদিয়ার দেখাদেখি বিলুপ্ত জাতের মাছের চাষের এক অপার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে রাজ্যের মানচিত্রে ।

মাছ চাষের সাফল্যে খুশি হলদিয়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুব্রত কুমার হাজরা, বিডিও তুলিকা দত্ত বন্দ্যোপাধ্যায় ও মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ গোকুল মাঝি। হলদিয়া ব্লকের মৎস্যচাষ সম্প্রসারণ আধিকারিক সুমন কুমার সাহু বলেন, ‘‘আমরা মৎস্য চাষিদের সঠিক পরামর্শ এবং প্রযুক্তির মধ্যে তাদেরকে আধুনিক মৎস্য চাষে উৎসাহিত করছি। সেই সাথে মানুষের কাছে ভোক্তাদের কাছে যাতে তারা নিরাপদ মাছ পৌছে দিতে পারে সে বিষয়েও পরামর্শ দিয়ে থাকি। বিশেষ করে এই সময়ে দেশীয় প্রজাতির পাবদা, গুলশা টেংরা, শিঙি, কই, মাগুর, সরপুঁটি মাছ চাষ করে অনেক জায়গার চাষিরা অগ্রগতি লাভ করেছে।’’

হারিয়ে যাওয়া মাছ গুলির বাণিজ্যিক চাষে এক অনন্য নজির গড়েছে হলদিয়ার তরুণ মাছ চাষি শুভ্রজ্যোতি। বিলুপ্ত জাতের মাছ গুলসা টেংরার চাষ সাফল্যের সাথে প্রথম চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেন। এক অল্প বয়সী মাছ চাষি হিসেবে শুভ্রজ্যোতি বেছে নিয়েছেন এই সব হারিয়ে যাওয়া দেশীয় মাছের চাষ। আর সাফল্যের সাথে চাষ করছেন।