কলকাতা: পরিকল্পনা করেই খুন করা হয়েছে। কলকাতা থেকে হলদিয়া নিয়ে গিয়ে খুন করা হল মা ও মেয়েকে। এবার সেই ঘটনায় উঠে এল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ সূত্রে খবর, মূল অভিযুক্ত সাদ্দামই মা ও মেয়েকে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছে। পাশাপাশি সাদ্দাম দাবি করেছে, নব বারাকপুরের বাসিন্দা রমার সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সময় সে ঘনিষ্ঠ মূহুর্তের ছবি তুলে রাখে।

এরপরই রমা ও তার মা আমার কাছে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করে। ঘনিষ্ঠ মূহুর্তের ছবি আমার স্ত্রীর কাছে ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখায়। আমি তাদেরকে ৪ লক্ষ টাকা দিয়েছি। তাছাড়া কলকাতার হাজরায় সাদ্দামের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। সেই ফ্ল্যাট লিখে দেওয়ার জন্যেও তাকে চাপ দিচ্ছিলেন রমা। তারপরই মা(রিয়া) ও মেয়ে (রমা) কে খুন করার পরিকল্পনা করি। এমনটাই দাবি মূল অভিযুক্ত সাদ্দামের।

নব বারাকপুরে মা ও মেয়ের প্রতিবেশীদের অভিযোগ, মা-মেয়ে অর্থাৎ রিয়া ও রমার গতিবিধি মোটেও সুবিধার ছিল না। বিলাস বহুল জীবন যাপন করত মা ও মেয়ে।পাড়ার কারও সঙ্গে তারা মেলামেশা করত না। তাদের ঘরে অপরিচিত পুরুষদের যাতায়াত ছিল নিয়মিত। হলদিয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নদীর পাড়ে দু’টি দেহ মিলেছিল, তা ছিল মা-মেয়ের। খুনের পরে দু জনের সম্পর্ক ফেসবুকের সূত্রে জানা গিয়েছিল।

প্রসঙ্গত, কলকাতা থেকে মা-মেয়েকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল হলদিয়ায়। দুর্গাচকের হাসপাতাল রোডের একটি বাড়িতে তাঁদের রাখার পরিকল্পনা করেছিল মেয়ের ‘প্রেমিক’ শেখ সাদ্দাম হুসেন। সেখানেই রাতের খাবারের সঙ্গে মাদক মিশিয়ে খাওয়ানো হয় দু’জনকে। বেহুঁশ হয়ে পড়লে ওই রাতেই নিউ ব্যারাকপুরের বাসিন্দা, মা রমা ও মেয়ে রিয়াকে নিয়ে যাওয়া হয় ঝিকুড়খালির নদীর পাড়ে।

ভোররাতে সেখানে জীবিত অবস্থায় আগুন দেওয়া হয় মা-মেয়ের গায়ে। পুড়ে মারা যান ওই দু’জন। ঘটনার পরই হলদিয়ার পুলিশ সুপার ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় জানান, জোড়া খুনের তদন্তে নেমে পুলিশ শেখ মনজুর আলম মল্লিক নামে একজনকে গ্রেফতার করে। পুলিশের জেরায় সে সব স্বীকার করে এবং জানায় এই ঘটনার সঙ্গে আরও তিন জন জড়িত। তাদের মধ্যে মূল হল শেখ সাদ্দাম হুসেন। এরপরই মূল অভিযুক্ত সাদ্দাম কে গ্রেফতার করে পুলিশ।এবার পুলিশের কাছে স্বীকার করল, কেন মা ও মেয়েকে জীবন পুড়িয়ে খুন করেছে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ