দেবশ্রী মাইতি, হলদিয়াঃ টিকটক অভিনেত্রী রিয়া দে’র সঙ্গে বডি ম‍্যাসাজ পার্লার থেকে পরিচয় হয় হলদিয়ার বাসিন্দা শেখ সাদ্দামের। এরপর একে অপরের সঙ্গে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে গভীর প্রেমের সম্পর্ক। প্রেমের ভাব ভালোবাসার খবর পান রিয়ার মা রমা দেও। তিনিও অবশ্য রিয়া ও সাদ্দামের সম্পর্কের মাঝে কোন রকম প্রাচীর হয়ে দাঁড়াননি। তবে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক চলার পর রিয়া ও তার মা রমা সাদ্দামকে বারবার বিয়ে করার জন্য চাপ দিচ্ছিল। আর এটাই হলদিয়ায় মা-মেয়ে খুনের ঘটনার মূল কারণ।

প্রেমিক সাদ্দাম নিজে একজন বিবাহিত যুবক। তবে সেই কথা আড়াল রেখে দেদার প্রেম ভালোবাসার সম্পর্ক চলছিল রিয়া ও সাদ্দামের মধ্যে। কিন্তু এর মাঝেই সাদ্দামের কাছে প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায় বিয়ের প্রস্তাব। এমনকি সাদ্দামকে নাকি রিয়া ও রমা বিয়ের জন্য বারবার ব্ল্যাকমেল করছিল। আর সে কারণেই একেবারে ঠান্ডা মাথায় মা ও মেয়েকে খুনের পরিকল্পনা করে হলদিয়ার পেশায় ঠিকা শ্রমিক যুবক শেখ সাদ্দাম হোসেন।

উল্লেখ‍্য, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে হলদিয়া দুর্গাচক থানা এলাকার ঝিকুরখালিতে হুগলি নদীর পাড়ে দুটি মৃতদেহ জ্বলন্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। এরপরই স্থানীয় দুর্গাচক থানায় খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশবাহিনী। জ্বলন্ত দুটি দেহ এমন অবস্থা হয়ে পড়ে যাতে কোনোভাবেই দুই জনের পরিচয় জানাতে পারছিল না পুলিশ। এরপর পুলিশ ওই দেহ দুটিকে উদ্ধার করে পশ্চিম মেদিনীপুরে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পারে দেহ দুটি মহিলার।

এরপরই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের তরফ থেকে ১৩ জনের একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম গঠন করে শুরু হয় তদন্ত। এমনকি দেহ উদ্ধারের তিনদিন পরে ঘটনাস্থলে তদন্তে আছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। তারা ঘটনাস্থল থেকে এক মহিলার কানের দুল এবং আরেকজনের মাথার রঙিন চুল উদ্ধার করেন। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ দুই মহিলার পরিচয় জানতে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হলেও অবশেষে উন্মোচিত হয় আসল রহস্য।

পুলিশ জানতে পারে ওই দুই মহিলার বাড়ি নিউ ব্যারাকপুরে। তারা দুজন সম্পর্কে মা ও মেয়ে। একজনের নাম রিয়া দে(১৯) এবং অপরজনের নাম রমা দে(৪০) বারবার রিয়া ও রমা এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত প্রেমিক সাদ্দামকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিল বলে সাদ্দাম পরিকল্পনা করে হলদিয়ায় ডেকে পাঠায় মা ও মেয়েকে। আর এখানেই হলদিয়া হাসপাতাল সংলগ্ন একটি ভাড়া বাড়িতে রাখা হয় তাদের। আর সেই বাড়িতেই পরিকল্পনা করে সাদ্দাম তার অনুগামী বন্ধুদের নিয়ে মা ও মেয়েকে বেহুশ করে দেয় ঘরের মধ্যে। এরপর তাদেরকে গাড়িতে করে নিয়ে যায় দুর্গাচক থানা এলাকার ঝিকুরখালি নদীপাড়ে। সেখানে ভোরের দিকে মা ও মেয়েকে জ্যান্ত অবস্থায় পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

এমন সময় ভোরের আলো ফুটতেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় মূল অভিযুক্ত ও তার সঙ্গীরা। এরপরই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের তরফ থেকে বিভিন্ন তথ্য জোর করে শুরু হয় তদন্ত। সাহায্য নেওয়া হয় সোশ্যাল মিডিয়ারও। সেখান থেকে তদন্তের সূত্র পেয়ে পুলিশ জানতে পারে মা ও মেয়ের বাড়ি নিউ ব্যারাকপুরে। সেখানে গিয়ে স্থানীয় প্রতিবেশীদের কাছ থেকে তাদের ফোন নম্বর জোগাড় করে পুলিশ। ওই দিনের টাওয়ার লোকেশন দেখতে পান তারা হলদিয়াতে ছিল। ক্রমে ক্রমে কল লিস্ট ঘাটে উঠে আসে অভিযুক্ত সাদ্দামের নাম।

এরপরই গ্রেফতার করা হয় মূল অভিযুক্ত শেখ সাদ্দাম ও তার সহযোগী মনজুর আলম মল্লিককে। আদালত ইতিমধ্যে তাদের ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। তবে খুনের ঘটনায় আরও তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য পুলিশ দুই জনের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠাবে বলে জানিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ সুপার ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়। তিনি আরো বলেন, “আমরা প্রাথমিকভাবে বুঝতে পারছি রিয়ার সঙ্গে সাদ্দামের অনেকদিন ধরে ভাব ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল।

তারপরে হয়তো কোন কারনে মনোমালিন্য হয় যার ফলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সাদ্দাম তার বন্ধুদের নিয়ে মেরে ফেলে” হলদিয়ায় এই মা ও মেয়ে খুনের ঘটনায় এখন গোটা এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। জেলায় জেলায় বিভিন্ন সংগঠনের তরফ থেকে ধিক্কার মিছিল বের করা হচ্ছে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।