হলদিয়া: মা-মেয়েকে জীবন্ত পুড়িয়ে খুনের মোটিভ নিয়ে এখনও ধন্দে পুলিশ৷ সাদ্দামের বয়ান অনুযায়ী ব্ল্যাকমেল থেকে বাঁচতেই মা-মেয়েকে খুন করা হয়েছে৷ কিন্তু পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য৷

মা-মেয়ে অর্থাৎ রিয়া ও রমার সঙ্গে ত্রিকোন প্রেম ছিল সাদ্দামের৷ পরে রিয়াকে বিয়ে করে সে৷ কিন্তু শাশুড়ির সঙ্গেও সাদ্দামের ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়তে থাকে৷ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়ার ভাড়াবাড়ি থেকে রিয়ার লেখা একটি ডায়েরি উদ্ধার করেছে পুলিশ৷ শুধু তাই নয় পাওয়া গিয়েছে রেজিস্ট্রি বিয়ের সার্টিফিকেটও৷ তার ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পেরেছে আইন মেনে ২০১৮ সালে রিয়াকে বিয়ে করেছে সাদ্দাম৷

পড়ুন আরও- আরও দু’বছর সরকারি চাকরিতে রাখার নির্দেশ মমতার

এর আগে জেরায় সাদ্দাম জানিয়েছিল, রিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে৷ যত দিন গিয়েছে রিয়ার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে৷ ফলে সাদ্দামের ঘনিষ্ঠ মূহুত্বের বেশ কিছু ছবি-ভিডিও চলে যায় রিয়ার হাতে৷ সাদ্দামের অভিযোগ, সেই ছবি ভিডিওকে হাতিয়ার করে ব্ল্যাকমেল করা শুরু করেন মা-মেয়ে৷ লক্ষ লক্ষ টাকা ও তার কলকাতার ফ্লাট হাতিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করে মা ও মেয়ে৷ আর সেই ব্ল্যাকমেল থেকে রেহাই পেতে খুনের ছক কষে মা-মেয়েকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারে সে৷

বৃহস্পতিবার রাতে হলদিয়ার ভবানীপুর থানার ডিঘাসিপুর এলাকা থেকে সুকদেব দাস (শিবু)কে গ্রেফতার করে দুর্গাচক থানার পুলিশ৷ সুকদেব পেশায় গাড়ির চালক৷ সে হলদিয়ার দুর্গাচকের নিউ কলোনির বাসিন্দা৷

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, গত ১৮ ফেব্রুয়ারির এই নৃশংস এই খুনের আগে হলদিয়ার হাজারি মোড় থেকে মা ও মেয়েকে হলদি নদীর চরে গাড়ি করে নিয়ে গিয়েছিল এই শিবুই৷ তারপর সেখানেই তাদেরকে নৃশংসভাবে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়৷

ওই খুনের ঘটনায় মঙ্গলবার আরও একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ এই নিয়ে হলদিয়াকাণ্ডে গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়াল চার৷ অন্যতম অভিযুক্ত আমিনুর হোসেন ওরফে সিন্টুকে মুম্বইয়ের গোরেগাঁও থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ তাকে ট্রানজিট রিমান্ডে হলদিয়ায় নিয়ে আসা হয়েছে।