পোর্ট-ওউ-প্রিন্স: দেশজুড়ে চলা হিংসাত্মক আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেন হাইতির প্রধানমন্ত্রী জ্যাক গাই লাফনট্যান্ট৷ হাইতি জুড়ে চলছে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে হিংসাত্মক আন্দোলন৷

শনিবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে এক ভাষণ দেন তিনি৷ বলেন রাষ্ট্রপতি জোভেনেল মইসির কাছে তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন৷ সেই পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে৷ এই খবরের সত্যতা স্বীকার করেছে বিবিসি৷
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভের শুরু থেকেই লাফনট্যান্টের বিরুদ্ধে কংগ্রেসে অনাস্থা প্রস্তাব আনার দাবি উঠেছিল। এই বিক্ষোভের সময় অন্তত ৪জন মারা যান৷ যথেচ্ছ ভাঙচুর চলে দোকান ও সরকারি বিল্ডিং গুলিতে৷ জ্বালানিতে সরকারি ভর্তুকি প্রত্যাহারের পরই এই বিক্ষোভ শুরু হয়।

ভর্তুতি তুলে দিলে পেট্রলের দাম ৩৮ শতাংশ, ডিজেলের দাম ৪৭ শতাংশ ও কেরোসিনের দাম ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা সাধারণ মানুষের৷ এই ঘটনার প্রতিবাদেই পথে নেমেছেন তাঁরা৷
তাদের বিক্ষোভ প্রতিবাদ মিছিলে রাজধানী পোর্ট-অউ-প্রিন্স অচল হয়ে পড়ে। বিক্ষোভের মুখে সরকার এই সংস্কার বাতিল বলে ঘোষণা করে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আইএমএফ বা ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ডের সঙ্গে একটি চুক্তি করে হাইতি৷ সেই চুক্তিতে উন্নয়নের নামে বেশ কিছু সংস্কার করে হাইতি সরকার৷ সেগুলির মধ্যে কয়েকটি কড়া পদক্ষেপও নেওয়া হয়৷ সেই পদক্ষেপ মানতে পারেনি সাধারণ মানুষ৷

আইএমএফ অবশ্য দাবি করেছিল এতে সরকারের তহবিলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান তৈরির জন্য টাকা আসবে৷ বিক্ষোভকারীদের দাবি, সরকার নিজেদের তহবিল ভরতেই ব্যস্ত৷ সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক দুর্দশা বুঝতে চাইছে না তারা৷

এর আগে ২০১৫ সালেও দেশটিতে জ্বালানি নিয়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছিল৷ তখন জ্বালানির মূল্য হ্রাসের দাবিতে সাধারণ মানুষ আন্দোলনে নামে৷