লাহোর: সন্ত্রাবাদী কর্মকাণ্ডে নাম জড়ালেও সাধারণত পাকিস্তানে বরাবরই অবাধ বিচরণ হাফিজ সইদের। তবে এবার ঈদে আর পছন্দের জায়গায় নমাজ পড়া হল আ জঙ্গি নেতা হাফিজের।

ঈদ-উল-ফিতরে প্রত্যেকবারই পাকিস্তানের কাদ্দাফি স্টেডিয়ামে নমাজ পড়ে হাফিজ সঈদ। তবে এবার তাকে সেখানে যেতে অনুমতি দেয়নি পাকিস্তানের সরকার। ফলে জওহর টাউনে তার বাড়ির কাছের একত মসজিদে গিয়েই প্রার্থনা সারতে হয়েছে জামাত-উদ-দাওয়া প্রধানকে।

সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, জেইউডি প্রধান হাফিজ সঈদ কাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ঈদে প্রার্থনা করতে চেয়েছিল। আবেদনও জানিয়েছিল হাফিজ সঈদ। সোমবার পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের সরকার সতর্ক করে হাফিজকে। কিন্তু হাফিজ সইদ যদি সেখানে প্রার্থনা করতে যেত তাহলে তাকে গ্রেফতার করা হতেও পারত। আর তা জেনেই সিদ্ধান্ত বদল করতে হয় মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ডকে। গ্রেফতারি এড়াতে সরকারের কথা শোনা ছাড়া তার কাছে আর কোনও উপায় ছিল না।

বহু বছর ধরে ওই কাদ্দাফি স্টেডিয়ামেই প্রার্থনা করে হাফিজ সঈদ। সাধারণত তার ব্যতিক্রম হয় না। আর তাছাড়া পাকিস্তান সরকারও বরাবর তাকে ফুল সিকিউরিটি দিয়ে সাহায্য করে এসেছে। ইদ-উল-ফিতর কিংবা ঈদ-উল-আজহা, কোনোটাতেই ব্যতিক্রম হয়নি। শুধু প্রার্থনা করাই নয়, সেখানে জমায়েত করে বক্তৃতাও দিত হাফিজ সঈদ।

হাফিজকে নিয়ে পাকিস্তানের আর্জি কিছুদিন আগেই খারিজ হয়ে গিয়েছে রাষ্ট্রসংঘে। ভারতের চাপের মুখে কার্যত নতিস্বীকার করতে হয়েছে পাকিস্তানকে। নিষিদ্ধ জঙ্গিদের তালিকায় মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ড তথা জামাত-উদ-দাওয়া প্রধান হাফিজ সঈদের নামটি মুছে দেওয়া আবেদন জানানো হয়েছিল পাক সরকারের তরফে। কিন্তু, সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায় রাষ্ট্রসংঘে।

জামাত-উদ-দাওয়া ছাড়াও জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবা’র প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সঈদের সম্বন্ধে অত্যন্ত গোপন ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য ভারত রাষ্ট্রসংঘের কাছে পেশ করার পরই তারা এই সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মুম্বাই হানার মাসখানেকের মধ্যেই হাফিজ সঈদকে নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ। ২০০৮ সালের মুম্বাই হানায় প্রাণ হারিয়েছিলেন মোট ১৬৬ জন।

২০১৭ সালে লাহোরের মির্জা ও মির্জা আইনি সংস্থার মাধ্যমে হাফিজ সঈদের পক্ষ থেকে একটি আবেদন করা হয় রাষ্ট্রসংঘের কাছে, তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার জন্য। ওই সময় পাকিস্তানেও গৃহবন্দি ছিল হাফিজ সঈদ। হাফিজ সঈদের আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করে ভারত সহ আমেরিকা ও একাধিক দেশ।

তবে, পুলওয়ামা হামলার পর সন্ত্রাসের উপর চাপ তৈরি করে পাকিস্তান। প্রত্যেক শুক্রবার মসজিদে গিয়ে ধর্মপ্রচার করত এই হাফিজ সঈদ। সেটাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। লাহোরে সংগঠনের হেডকোয়ার্টারে গিয়ে ভাষণ দিত মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সঈদ। এবছরের মার্চ মাসেই প্রথম জামিয়া মসজিদ কাদসিয়ায় ভাষণ দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয় হাফিজের। এবার প্রিয় মসজিদে পড়া হল না নমাজও।