নয়াদিল্লি:  বদলা নেওয়ার জন্যে ফুঁসছে হাফিজ সইদ। ভারতের লাগাতার চাপে এখন পাকিস্তানের জেলে বন্দি জামাত-উদ-দাওয়া (জেইউডি) প্রধান হাফিজ মহম্মদ সইদ। শুধু ভারতের চাপই নয়, মার্কিন চাপে জামাত-উদ-দাওয়াকে ইতিমধ্যে নিষিদ্ধ করেছে পাকিস্তান। কিন্তু এরপরও ভারতে বিভিন্নভাবে নাশকতা চালানোর ছক কষে চলেছে জঙ্গি নেতা হাফিজ। এমনটাই চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এসেছে ভারতের গোয়েন্দাদের কাছে।

গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন যে, ভারতের উপর বদলা নিতে অন্যান্য ছোটখাটো সংগঠনকে ব্যবহার করার কৌশল নিয়েছে হাফিজ। আর জেলে বসেই সেই ঘুঁটি হাফিজ সাজাচ্ছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে গোয়েন্দাদের কাছে।

অন্যদিকে এই তথ্য হাতে পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসেছে সেনা আধিকারিকরা। হাফিজের যে কোনও পরিকল্পনাকে ভেস্তে দিতে হাই-অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে সেনাবাহিনীতে। তল্লাশি অভিযান বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শীর্ষ এক গোয়েন্দা আধিকারিক জানিয়েছেন, জঙ্গি গোষ্ঠী লস্করের ছাতার তলায় থাকা জেইউডি-র প্রধান সইদ জেলে থেকেও সক্রিয় রয়েছে। ভারতের মাটিতে নাশকতা চালাতে অন্যান্য ছোট ছোট জঙ্গি সংগঠনের সাহায্য হাফিজ নিচ্ছে বলেও তথ্য যে তাঁদের হাতে এসেছে তা কার্যত সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ওই গোয়েন্দা আধিকারিক। সন্ত্রাসে আর্থিক মদত ও আর্থিক জালিয়াতিতেও এই কৌশল নিয়েছে ২০০৮ মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ড। গোটা বিষয়টি নজরে আসতেই তার উপর কড়া নজর রাখছেন গোয়েন্দারা।

উল্লেখ্য বাংলা এক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর মোতাবেক বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসে আর্থিক মদতকারী সংগঠনের উপর নজর রাখে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক নামে এক সংস্থা। তারা জানতে পারে, পাকিস্তানের মাটিকে ব্যবহার করে অনেক জঙ্গি সংগঠন এই ধরনের কাজে জড়িয়ে রয়েছে। এর পরই সতর্ক করতে ইমরান খানের দেশকে ‘গ্রে লিস্ট’-এ অন্তর্ভুক্ত করে এই সংস্থা। এতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বেকায়দায় পড়ে যায় পাকিস্তান। রাতারাতি হাফিজ সইদের সংগঠনকে নিষিদ্ধ করে ইমরান খান সরকার।

একাধিক মামলায় ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে হাফিজকেও। কিন্তু গোয়েন্দাদের হাতে আসা তথ্য বলছে, এরপরেও খান্ত হননি হাফিজ। যে কোনওভাবে ভারতের উপর বদলা নিতে রীতিমত ফুঁসছে সে। আর এই তথ্য হাতে পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসেছে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।