নিউজ ডেস্ক: বাঙালি খাবারের গন্ধ ম-ম করছে টেবিল৷ এলাহি আয়োজন সেখানে। একে বড়কার এক পদ সাজানো থালার চারিদিকে৷ কিন্তু সর্ষে তেলের ঝাঁজ, ভাজা মশলার গন্ধ, কষা মাংসের সুবাসের সঙ্গে মিশে রয়েছে এক অন্য গন্ধ। তাইতো খাবার টেবিলে বসে খাবারের গন্ধের থেকে বেশি রহস্যেরই গন্ধই পাচ্ছেন সকলে৷ ‘গুপ্তধনের সন্ধানে’ দেখে এমনটাই মত৷ এই কাহিনিতে পেট থেকে সোজা মনে হয় মাথায় ঢুকেছেন পরিচালক। স্বাদে-রহস্যে মন্দ নয় ‘গুপ্তধনের সন্ধানে’

গোয়েন্দা গল্পের রিভিউ লেখার একটা নিয়ম আছে। জট ছাড়ানো যাবে না। তাই সোনাদা আদেও সোনার সন্ধান পান কিনা, তা জানতে হলে আপনাকে যেতে হবে সিনেমা হলে। তবে এইটুকু বলে দিতে পারি সিনেমা শেষে কিন্তু আপনাকে সন্ধান করতে হতে বাঙালি রেস্তোরাঁর। রসনা এখানে মাত দিয়েছে রহস্যকে। ‘জীবনে বাঁচতে গেলে খেতে হবে’-এই মন্ত্রের মতো এই গল্পেরও ট্যাগ লাইন ‘সব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে খাবারের থালায়’। বাঙলার খাবারকে খুব সুন্দর করে এছবিতে পরিবেশন করেছেন পরিচালক। যা আগে কখনও দেখা যায়নি।

আরও পড়ুন:  শ্যুটিংয়ের ফাঁকে ফ্রেমবন্দি বৌদির উষ্ণ আবেদন

‘গুপ্তধনের সন্ধানে’ এমন একটি ছবি যার প্রতিটি ফ্রেমে বন্দি হয়েছে বাঙালিআনার গল্প। বাঙলার ঐতিহ্যের কাহিনি। আসলে পুরো গল্পটাই আবর্ত হয়েছে বাংলার ইতিহাস ও সংষ্কৃতিকে আখড়ে ধরে। এই সিনেমায় বাঙালির নরম জায়গায় ঘা দিয়েছেন পরিচালক। নস্ট্যালজিক বাঙালির পুরনো আবেগে সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছেন আধুনিকতা। এখানেই পরিচালকের স্বার্থকতা।

আরও পড়ুন:  আমি নই রুক্মিণী এই গল্পের হিরো

রহস্যকে কীভাবে পর্দায় টানটান রাখতে হয়, তা বেশ রপ্ত আবিরের। তাই ব্যোকমেশের পর সোনাদের চরিত্রেও তিনি জাস্ট আসাধারণ। অর্জুন ও ইষা এই ছবিকে তাঁদের যতটুকু দেবার তাই দিয়েছেন। রজতাভ দত্তের অভিনয় নতুন করে কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না। সব মিলিয়ে মিশিয়ে সপ্তাহের শেষে ‘গুপ্তধনের সন্ধানে’ একবার সিনেমাহলে ঢু মারাই যায়।

সিনেমা: গুপ্তধনের সন্ধানে
পরিচালক: ধ্রুব বন্দোপাধ্যায়
অভিনয়ে: আবির চট্টোপাধ্যায়, রজতাভ দত্ত, অর্জুন ও ইষা