কলকাতা: সদ্য পাঁচ রাজ্যে ভরাডুবি হয়েছে বিজেপির। দলের প্রধান মুখ হিসেবে দায় পড়েছে মোদীর উপরে। পদ্মের হারের সুযোগে আক্রমণে সুর চড়িয়েছে বিরোধী দলগুলি। যার অন্যতম প্রধান মুখ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ফাইল ছবি

এরই মাঝে বাংলায় বন্ধুত্বের বার্তা এল মোদীর রাজ্য গুজরাত থেকে। তবে খালি মুখের বন্ধুত্ব নয়। কথায় আছে গুজরাতিরা পাক্কা ব্যাপারি হয়। সেই প্রবাদ অবশ্য বজায় রয়েছে এই বন্ধুত্বের বার্তায়। ব্যবসায়িক স্বার্থে বাংলার প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়াল গুজরাত। সৌজন্যে আমেদাবাদ বাণিজ্য সম্মেলন।

আমেদাবাদ বাণিজ্য সম্মেলনে বাংলা থেকে বিনিয়োগ চাইছে গুজরাত। এমনই জানিয়েছেন ওই রাজ্যের শিক্ষা এবং বিমান পরিবহণ মন্ত্রী ভুপেন্দ্র সিং চুদাসামা। তিনি বলেছেন, “অনেক আগে থেকেই বাংলার উদ্যোগপতিরা আমাদের রাজ্যে বিনিয়োগ করেন। আমারা সেই অংকটা আরও বাড়াতে চাইছি।” সেই কারণেই বাংলার বিনিয়গকারীদের বাণিজ্য সম্মেলনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চুদাসামা।

ভূপেন্দ্র সিং চুদাসামা

গুজরাতের সুরাত সহ বিভিন্ন জায়গায় বাঙালি শ্রমিকদের আধিক্য দেখা যায়। সেই জায়গায় বাঙালি বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি অবশ্যই একটা নতুন বার্তা দেয়। এই বিষয়ে গুজরাতের মন্ত্রী ভুপেন্দ্র সিং চুদাসামা বলেছেন, “কলকাতার অনেক উদ্যোগপতি আমাদের রাজ্যে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। আমারা সকলকেই সাদরে আহ্বান জানাচ্ছি।”

আমেদাবাদে হোটেল খোলার বিষয়ে আইটিসি কর্তাদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুপেন্দ্র সিং চুদাসামা। একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “কলকাতার একটি ছাতা প্রস্তুতকারক সংস্থা আমাদের রাজ্যে কারখানা খোলার আবেদন করেছে। খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।” মঙ্গলবার কলকাতায় উদ্যোগপতিদের সঙ্গে বৈঠক করেন গুজরাতের মন্ত্রী ভুপেন্দ্র সিং চুদাসামা। সেই বৈঠকে তিনি বলেন, “গুজরাতে টেক্সটাইল থেকে ফুড প্রসেসিং সব ধরনের শিল্পের উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে। বিনিয়োগ করলে লাভবান হবেন।”

বছর দশেক আগে সিঙ্গুরের ন্যানো প্রকল্প বাংলা ছেড়ে চলে গিয়েছিল গুজরাতে। রাজ্যের বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেসের আন্দোলনের কারণেই ওই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছিল টাটা কর্তৃপক্ষ। সেই সময় গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সেটা তাঁর মাস্টার স্ট্রোক ছিল বলে দাবি করেছেন চুদাসামা।

দশ বছরে গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গিয়েছে। সবরমতীর জলেও এসেছে পরিবর্তন। রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। তবে বাণিজ্যের স্বার্থে সেই সকল বিতর্কে জড়াতে নারাজ মন্ত্রী চুদাসামা। তাঁর কথায়, “দুই রাজ্যের তুলনা বা রাজনৈতিক বিতর্ক চাই না। সার্বিক উন্নয়নই আমাদের মূল লক্ষ্য।”