আমদাবাদ ও পদুচেরি: বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা নামক মারণ ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে সবচেয়ে বেশি যেটা দরকার তা হল সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং৷ অর্থাৎ বাড়ির বাইরে দু’জনের মধ্য নিরাপদ দূরত্ব বজার রাখা৷ ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) গবেষকরা দাবি করেছেন, সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং মেনে চলে ভারতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পরিমাণ প্রায় ৬২ শতাংশ কমানো যাবে৷

সোশ্যাল ডিসট্যান্সিংয়ের আদর্শ উদারণ স্থাপন করল গুজরাত ও পদুচেরি৷ সারা দেশে লক-ডাউনের মধ্যে সাধারণ মানুষকে নিয়্ন্ত্রণে আনতে বেশিরভাগ জায়গায় পুলিশকে মাথার ঘাম ফেলতে হচ্ছে৷ সেখানে লকডাউনের সময় সমাজ সচেতনার চোখে পড়ল গুজরাত ও তামিলনাড়ুর পার্শ্ববর্তী এই কেন্দ্র-শাসিত অঞ্চলে৷

গুজারাতের মুদির দোকানের সামনে চোখে পড়ল সোশ্যাল ডিসট্যান্সিংয়ের আর্দশ ছবি৷ ছোট মুদির দোকানের সামনে দেখা গেলে প্রতি এক মিটার দূরত্বে চক দিয়ে বৃত্ত করে দেওয়া জায়গাতেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন ক্রেতারা৷ এই ব্যবস্থা করেছেন দোকানের মালিক নিজেই৷ পদুচেরির দুধের দোকানের সামনেও চোখে পড়ল একই ছবি৷ এই দুই ছবি নিজের টুইটারে হ্যান্ডেলে পোস্ট করে সমাজিক সচেতনার বৃদ্ধির চেষ্টা করেন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার কিরণ বেদী৷

বুধবার পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় সোশ্যাল ডিসট্যান্সিংয়ের ছবি ছোখে পড়েছে৷ বেলেঘাটায় ওসুধের দোকানের সামনে চক দিয়ে বৃত্ত আঁকতে দেখা গেল খোদ পুলিশকে৷ এছাড়াও শিলিগুড়ি ও কোচবিহারে প্রশাসনের উদ্যোগে সোশ্যাল ডিসট্যান্সিংয়ের জন্য বৃত্ত আঁকতে৷ তবে প্রশাসন নয়, করোনা সংক্রমণ রুখতে সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে৷

সোশ্যাল মিডিয়ায় সামাজিক সচেতনার এই ছবি ভাইরাল হলেও মানুষের মধ্যে সচেতনা কি সত্যিই বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ মঙ্গলবার রাত থেকে সারা দেশে শুরু হয়েছে লকডাউন৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছেন ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে এই লকডাউন থাকবে৷ এই লকডাউন এক ধরনের কার্ফু৷ লকডাউন ভাঙলে কড়া শাস্তি হবে৷

করোনা নামক মারণ ভাইরাসে ইতিমধ্যেই দেশের ১১ জনের প্রাণ নিয়েছে৷ আক্রান্ত হয়েছে সাড়ে পাঁচশোর বেশি মানুষ৷ সুতরাং এই সংখ্যাটা আর যাতে বেশি না-বাড়ে তার জন্য সারা দেশেই লকডাউনের কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভারত সরকার৷ লকডাউনে ছাড় দেওয়া হয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসকে৷ কিন্তু সাধারণ মানুষকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার সময়ও সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং বজায় রাখার কথা বারবার বলেছেন বিশেষজ্ঞরা৷