আহমেদাবাদ: আলু চাষিদের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নেওয়া কথা পেপসিকো ঘোষণা করলেও হয়রানির জন্য চাষিরা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ৷ শুক্রবার ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা দাবি করেছে ওই মামলার কারণে তাদের যে হয়রানি হয়েছে তার জন্য ক্ষতি পূরণ চাই৷ পাশাপাশি নতুন গঠিত সংগঠন বীজ অধিকার মঞ্চ পেপসিকো-র সমস্ত পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছে৷

এ ছাড়া চাষিদের দাবি বিনা শর্তে যেন মামলাগুলি তুলে নেওয়া হয় কারণ পেপসিকো মামলা তোলার কথা বললেও বিবৃতিতে বলা নেই তারা কি উত্পাদন করবেন সেই বিষয়ে আলু চাষীদের অধিকার যাতে লঙ্ঘন না হয় তার নিশ্চয়তা দিতে হবে।পাশাপাশি চাষিরা আর্জি জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের যেন এই ইস্যুতে তাদের সমর্থন করে এবং কোনও ভাবেই কর্পোরেট স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত না হয় ৷

প্রসঙ্গত, ফুড বিভারেজ জায়েন্ট পেপসিকো বৃহস্পতিবার জানিয়েছিল, গুজরাটের চার আলু চাষির বিরুদ্ধে পেটেন্ট বিধি লঙ্ঘণের জন্য যে মামলা করা হয়েছিল তা তুলে নেওয়া হচ্ছে৷

পেপসিকো ইন্ডিয়ার মুখপাত্র জানিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর কোম্পানি সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওই চাষিদের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নেওয়ার৷ গত এপ্রিলে পেপসিকো মামলা করেছিল ওই চার চাষির বিরুদ্ধে যারা বিভিন্ন ভাবে আলু চাষ করত শুধুমাত্র লেজ পটাটো চিপস তৈরির জন্য৷

কোম্পানির মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হল চাষিরা উদ্ভিদ বৈচিত্র্য সুরক্ষা (পিভিপি) অধিকার দাবি করে কন্দ, আলু, ওল ইত্যাদি জাতীয় জিনিস উৎপাদন করছিল যার থেকে জনরোষ সৃষ্টি হচ্ছিল৷ পাশাপাশি পেপসির পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, আলোচনা উপর নির্ভর করে একটি দীর্ঘমেয়াদি এবং গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া গিয়েছে যাতে বীজ সুরক্ষা রাখা যাবে৷

গুজরাটের সবরকাথা এবং আরাবল্লী জেলার নয় জন চাষির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল কারণ তারা বিভিন্ন ধরনের আলু চাষ করছিল যারফলে কোম্পানি দাবি করে এই উদ্ভিদ বৈচিত্র্য সুরক্ষা (পিভিপি) অধিকারের ফলে ২০ লক্ষ থেকে এক কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছিল৷ পাশাপাশি বিবৃতিতে জানান হয়েছিল, এই সংস্থা এখনও দেশজুড়ে হাজার হাজার চাষিদের প্রতি দায়বদ্ধ এবং নিশ্চিত করে সেরা চাষ পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে ৷ এখনও পর্যন্ত গুজরাটে মোট ১১ জন চাষির বিরুদ্ধে মামলা করেছিল কোম্পানি ৷ বানাসকানথা জেলায় আরও দুইজন চাষির বিরুদ্ধে একই কারণে আগেই মামলা করা হয়েছিল৷