গান্ধীনগর: একবিংশ শতকে দাঁড়িয়েও পুরোপুরি সভ্য হয়ে উঠতে পারিনি আমরা। ফের তারই প্রমাণ মিললো। গোটা দেশ যখন বিজ্ঞানের অগ্রগতির লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে, ঠিক তখনই আমাদের সমাজের একশ্রেণীর মানুষ কালা জাদুর মতো গোঁড়ামি আর অন্ধবিশ্বাসে ভর করে চলছে।

আর এই অন্ধবিশ্বাসের দরুণ বৌমা এবং তাঁর স্বামীর যৌনসম্পর্ক তৈরির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে খোদ গুণধর শ্বশুর মশায়।

ভাবতে বা বিশ্বাস করতে কিছুটা অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। ২০২০ সালে দাঁড়িয়েও এমন ঘটনার সাক্ষী থাকতে হচ্ছে আমাদের। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাটের গান্ধীনগর জেলায়।

বুধবার একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা গিয়েছে, নিজের বৌমাকে প্রেতাত্মা ভর করেছে,ফলে বৌমা যদি তার স্বামী সঙ্গে সহবাস করে তাহলে অতৃপ্ত আত্মা তার ছেলের শরীরেও ভর করতে পারে বলে মনে করেন অভিযুক্ত শ্বশুর।

নির্যাতিতা ওই মহিলা এই বিষয়ে স্থানীয় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। জানা গিয়েছে পারিবারিক সহিংসতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিন ৪৩ বছর বয়সী ওই মহিলা অভিযোগ করেন যে, তিনি যখন তাদের অযৌক্তিক দাবিগুলির প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেন তখনই তাঁকে শ্বশুরবাড়ীর লোকজন এবং তাঁর স্বামী মারধর করে।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ওই দম্পতির আদালতে মাধ্যমে বিয়ে হয়। এরপর নির্যাতিতা ওই মহিলা তাঁর স্বামীর সঙ্গে গান্ধীনগরে এসে বসবাস শুরু করেন।

শুধু তাই নয়, স্বামীর সঙ্গে সংসার করার জন্য তিনি ভাদোদরা থেকে গান্ধীনগরে স্থানান্তরিত হন। এদিন তিনি পুলিশকে আরও জানান যে, তাঁর শ্বশুরবাড়ীর লোকেরা দাবি করেছেন যে তাঁর শরীরে একটি প্রেতাত্মা রয়েছে এবং এই এই অবস্থায় তাঁরা যদি যৌন মিলন করে তবে তাদের ছেলের শরীরেও এই অশরীরি আত্মা ঢুকে যাবে।
এছাড়াও তিনি আরও অভিযোগও করেছেন যে, তাঁর শাশুড়িও তার স্বামীকে যৌন নির্যাতনের জন্য প্ররোচনা দেন।

এদিন তিনি বলেন, “যখনই আমি বাড়িতে একা থাকতাম, আমার শ্বাশুড়ী শ্বশুরকে আমার শ্লীলতাহানি করতে বলতেন। আমি গত ১০ মার্চ স্বামীর বাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলাম। তারপরে আমার পরিবারের অন্য সদস্যদের তরফে আমাকে শ্বশুর বাড়িতে দিয়ে যাওয়া হলেও শ্বশুর বাড়ির লোকেরা আমায় নিতে অস্বীকার করেছে।”

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।